পশ্চিমবঙ্গ সরকার কমিশনকে মোট ৮,৫০৫ জন গ্রুপ-বি আধিকারিক দিতে প্রস্তুত, জানাল নবান্ন। ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) নিয়ে আইনি টানাপোড়েনের মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের। এই কাজের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার কমিশনকে মোট ৮,৫০৫ জন গ্রুপ-বি আধিকারিক দিতে প্রস্তুত, জানাল নবান্ন। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে মামলার পরবর্তী শুনানির আগে এই সিদ্ধান্ত বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, শনিবার নবান্নের তরফে নির্বাচন কমিশনকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। তাতে জানানো হয়েছে যে, ভোটার তালিকার সংশোধনের কাজে যত গ্রুপ-বি আধিকারিক প্রয়োজন, তা সরবরাহ করতে রাজ্য প্রস্তুত। আদালতের নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।
এর আগে গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টে SIR সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে নিজে সওয়াল করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক গ্রুপ-বি অফিসার দেয়নি। ফলে অন্য রাজ্য থেকে আধিকারিক এনে কাজ চালাতে হয়েছে। কমিশনের এই বক্তব্যের পরই আদালত বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট তথ্য দিতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয়।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চ জানায়, SIR-এর কাজে কত জন গ্রুপ-বি আধিকারিক দিতে পারবে রাজ্য, তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে। সেই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতেই নবান্ন শনিবার কমিশনকে চিঠি পাঠিয়ে সংখ্যা জানায়। সোমবারের শুনানিতে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, ভোটার তালিকার নাম সংশোধনের সময় বানান ভুল বা পদবি পরিবর্তনের মতো ছোটখাটো কারণে বহু ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ অযথা সমস্যার মুখে পড়ছেন বলে দাবি তাঁর। আদালতও জানায়, বানানের সামান্য ত্রুটির জন্য কোনও ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়া উচিত নয়।
এই প্রসঙ্গে আদালত রাজ্য সরকারকে এমন আধিকারিকদের তালিকা দিতে বলে, যাঁরা বাংলা ভাষায় দক্ষ। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ ছিল, বাংলায় সাবলীল আধিকারিক নিয়োগ করা হলে ভাষা ও বানান সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান সহজ হবে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন আদালতে জানিয়েছিল যে SIR-এর কাজে এখনও পর্যন্ত রাজ্য মাত্র ৮০ জন গ্রেড-২ আধিকারিককে নিয়োগ করেছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। কমিশনের দাবি, তুলনামূলকভাবে নিম্নস্তরের সরকারি কর্মীদেরই বেশি সংখ্যায় কাজে লাগানো হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিরোধিতা করে মুখ্যমন্ত্রী আদালতে জানান, রাজ্য সরকার নির্বাচন কমিশনের কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করছে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে এই তথ্য ও চিঠির উল্লেখ হতে পারে বলে অনুমান ওয়াকিবহাল মহলের।