ফাইল ছবিচৈত্রের শেষদিনে রীতিমতো আগুনঝড়া গরম রাজ্যজুড়ে। আপাতত গরম কমার কোনও সম্ভাবনা নেই, বরং তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে দক্ষিণবঙ্গের বহু জেলায়। মঙ্গলবার দুপুরে এমনই পূর্বাভাস দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ড ও সংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ০.৯ কিমি উচ্চতায় একটি ঘূর্ণাবর্ত দানা বাঁধছে। এর পাশাপাশি দক্ষিণ অসম থেকে দক্ষিণ তামিলনাড়ু পর্যন্ত একটি উত্তর-দক্ষিণ অক্ষরেখাও বিস্তৃত রয়েছে। এই দুইয়ের প্রভাবে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তীব্র গরম, আর্দ্রতা এবং বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তাপমাত্রার প্রবণতা
আগামী ২ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। এরপর পরবর্তী ৫ দিনে তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তন হবে না।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া
মঙ্গলবার উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও বাকি জেলাগুলিতে শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে। পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকবে।
১৫ এপ্রিল: ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও পশ্চিম বর্ধমানে হালকা বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা। ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। একই সঙ্গে তীব্র গরম ও আর্দ্রতা থাকবে।
১৬ এপ্রিল: দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় (পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বর্ধমান, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর) হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। কিছু জায়গায় ঝড়ো হাওয়াও বইতে পারে।
১৭ এপ্রিল: পুরুলিয়া, বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যান্য জেলাতেও বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হতে পারে।
১৮ এপ্রিল: মূলত শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে, তবে মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমে সামান্য বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
১৯-২০ এপ্রিল: দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে শুষ্ক আবহাওয়া, তবে পশ্চিমের জেলাগুলিতে গরম ও আর্দ্রতা অব্যাহত থাকবে।
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া
এদিন দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা। পাহাড়ি জেলাগুলিতে বজ্রঝড় ও দমকা হাওয়াও বইতে পারে (৩০-৪০ কিমি বেগে)।
১৫ এপ্রিল: উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।