Fish Consumption In India: কোন রাজ্য সবচেয়ে বেশি মাছ খায়, একনম্বরে BJP শাসিত রাজ্য, বাংলার স্থান কত? সরকারি ডেটা রইল

মাছেভাতে বাঙালি বলা হলেও এ রাজ্য মাছ খাওয়ার নিরিখে সত্যি সত্যিই অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাছ খাওয়া হয় কোন রাজ্যে? কোন কোন রাজ্য মাথাপিছু এবং দৈনিক মাছ খাওয়ার নিরিখে এগিয়ে বা পিছিয়ে রয়েছে? দেখে নিন তালিকা।

Advertisement
কোন রাজ্য সবচেয়ে বেশি মাছ খায়, একনম্বরে BJP শাসিত রাজ্য, বাংলার স্থান কত? সরকারি ডেটা রইলবাঙালি মাছে-ভাতে নয়?
হাইলাইটস
  • এ রাজ্য মাছ খাওয়ার নিরিখে সত্যি সত্যিই অনেকটা পিছিয়ে
  • কোন কোন রাজ্য দৈনিক মাছ খাওয়ার নিরিখে এগিয়ে
  • BJP শাসিত কোন কোন রাজ্যে মাছ খাওয়ার চল বেশি?

'আমরা কি মাছ খাব না? খাব না আমরা মাছ?' তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, 'BJP ক্ষমতায় এলে মাছ খেতে দেবে না বাঙালিকে।' আবার BJP-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, 'বাঙালি মাছ ছাড়া থাকতে পারে না কি!' এর মাঝেই বিষ্যুদের বারবেলায় হলদিয়ায় টানা ৫ মিনিট ধরে 'মৎস্যমুখী' প্রচার করলেন নরেন্দ্র মোদী। আর এই দুই যুযুধান পক্ষের মধ্যে প্যাঁচে পড়ে গিয়েছে মাছেভাতে থাকা আম বাঙালি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাঙালি কি সত্যিই মাছ খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে? অন্য রাজ্যের তুলনায় এ রাজ্যে কি 'মেছো'-দের সংখ্যা নিম্নমুখী? 

খাবারে মাছ না হলে ভাত মুখে রোচে না এমন বাঙালির সংখ্যা নেহাত কম নয়। তবে ২০২৪ সালের কেন্দ্রের রিপোর্ট বলছে, মাছ খাওয়ার ক্ষএত্রে পশ্চিমবঙ্গ পিছিয়েই রয়েছে। কৃষি এবং কৃষক উন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনে Indian Council of Agricultural Research-এর রিপোর্টে প্রথম তিনে স্থান পায়নি বাংলা। হাপুস হুপুস করে মাছ খেয়ে এগিয়ে গিয়েছে অন্য রাজ্যগুলি। 

BJP শাসিত রাজ্যগুলিতে মাছ তথা আমিষ খাবারে বাধা নিয়ে যে তত্ত্বগুলি রয়েছে তা কার্যত ভুল প্রমাণ করে দিয়েছে ত্রিপুরা, অসম। কেন্দ্রের রিপোর্ট বলছে, দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাছ ভক্ষণ করে ত্রিপুরা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মণিপুর এবং তৃতীয় স্থানে অসম। পশ্চিমবঙ্গের ঠাঁই ষষ্ঠ স্থানে। 

এক নজরে মাছ খাওয়ার নিরিখে রাজ্যের তালিকা

রাজ্য কত মাছ খাওয়া হয়?
ত্রিপুরা ৯৯.৩৫%
মণিপুর ৯৯.২৫%
অসম ৯৯.১০%
অরুণাচল প্রদেশ ৯৯.০৫%
নাগাল্যান্ড ৯৮.৮৫%
পশ্চিমবঙ্গ ৯৮.৬০%
মেঘালয় ৯৮.৫০%
কেরলম ৯৭.৩৫%
মিজোরাম ৯৬.৯৫%
গোয়া  ৯৫.৪৫%

২০২৩ সালে প্রকাশিত কেন্দ্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের মধ্যে মৎস্য ভক্ষণে সে সময়ে সবার থেকে এগিয়ে লাক্ষাদ্বীপ। হিসাব বলছে, ২০১৯-২০ সালে লাক্ষাদ্বীপের বাসিন্দারা মাথাপিছু গড়়ে ১০৫.৬ কেজি মাছ খেয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে ছিল আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। সমুদ্রে ঘেরা এই কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে বার্ষিক মৎস্য ভক্ষণের পরিমাণ মাথাপিছু গড়়ে ৫৯ কেজি। সে সময়ে তৃতীয় স্থানে ছিল ত্রিপুরা।  ২০১৯-২০ সালে সে রাজ্যের বাসিন্দারা মাথাপিছু গড়়ে ২৫.৪৫ কেজি মাছ খেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কেন্দ্রের এই তালিকায় ছিল না পশ্চিমবঙ্গের নাম। উল্লেখ করা যেতে পারে ২০১৪ সালে প্রকাশিত আর এক কেন্দ্রীয় রিপোর্টের কথা। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী মৎস্যমুখী রাজ্যগুলির তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের নাম ছিল চতুর্থ স্থানে। পশ্চিমবঙ্গে গ্রাম শহর নির্বিশেষে গড়ে প্রতি ১০ পরিবারের মধ্যে ৮টির বেশি পরিবারে নিয়মিত মাছ ঢুকত সেই রিপোর্ট অনুযায়ী। 

Advertisement

দৈনিক মাছ খাওয়ার নিরিখে বাংলা কত নম্বরে? 

রাজ্য দৈনিক কত শতাংশ মাছ খাওয়া হয়?
কেরলম ৫৩.৫%
গোয়া

৩৬.২%

পশ্চিমবঙ্গ ২১.৯০%
মণিপুর ১৯.৭০%
অসম ১৩.১০%
ত্রিপুরা ১১.৫০%

 


> মাছ বিমুখ রাজ্যগুলির মধ্যে রয়েছে পঞ্জাব (২৬.৪৫%), রাজস্থান (২২.৫%) এবং হরিয়ানা (২০.৫৫%)। 
> গত ১৫ বছরে মাছ খাওয়া বেড়েছে জম্মু-কাশ্মীরে। 
> মাথাপিছু মাছ সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয় আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে (১১৪ কেজি)। দ্বিতীয় স্থানে লাক্ষাদ্বীপ (৮৯ কেজি)। তৃতীয় স্থানে সেই ত্রিপুরা (২৭.৬৩ কেজি)। 

 

 

POST A COMMENT
Advertisement