West Bengal Population: উঃ ২৪ পরগনাতেই প্রায় ১ কোটি জনসংখ্যা! অবিলম্বে বিহার, ওড়িশার স্ট্র্যাটেজি নেওয়া কেন জরুরি বাংলার?

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার আয়তন ৯হাজার ৯৬০ বর্গ কিলোমিটার। প্রায় ৮১ লক্ষ জনসংখ্যা। আবার মুর্শিদাবাদের আয়তন ৫ হাজার ৩২৪ বর্গ কিলোমিটার। প্রায় ৭১ লক্ষ মানুষ বাস করেন।  শ্চিম মেদিনীপুরের আয়তন ৬ হাজার ৩০৮ বর্গ কিলোমিটার, প্রায় ৫৯ লক্ষ জনসংখ্যা। এবং গত ১৫ বছরে জনসংখ্যা আরও বেড়েছে। ২০১১ সালের আদমসুমিরার ডেটা অনুযায়ী, ২৩টি জেলায় প্রায় ৯ কোটি মানুষের বাস। অর্থাত্‍ প্রতি জেলায় গড়ে প্রায় ৪০ লক্ষ জনসংখ্যা। 

Advertisement
 উঃ ২৪ পরগনাতেই প্রায় ১ কোটি জনসংখ্যা! অবিলম্বে বিহার, ওড়িশার স্ট্র্যাটেজি নেওয়া কেন জরুরি বাংলার?শিয়ালদা স্টেশনের ভিড় -- পিটিআই ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় প্রায় ১ কোটি মানুষের বসবাস
  • প্রতি জেলায় গড়ে প্রায় ৪০ লক্ষ জনসংখ্যা
  • বিহার, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশের হাল কী?

পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলি এক একটি আস্ত দেশ! শুনতে একটু অবাক লাগলেও জনসংখ্যার নিরিখে এটাই বাস্তব। বাংলায় বর্তমানে ২৩টি জেলা। ২০২৬ সালের বাজেটে আরও নতুন ৫ জেলা তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেগুলি হল, কলকাতা, সুন্দরবন, বসিরহাট, জঙ্গিপুর ও আরামবাগ। এখন প্রশ্ন হল, যদি পশ্চিমবঙ্গে জেলার সংখ্যা বেড়ে ২৮ হয়, তাহলেও কি জেলাভিত্তিক যে বিপুল জনঘনত্ব, তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে?

উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় প্রায় ১ কোটি মানুষের বসবাস

২০১১ সালে আদমসুমারিতে দেখা যাচ্ছে, বাংলার ৮টি জেলা, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, হাওড়া, কলকাতা, মালদা, পশ্চিম মেদিনীপুর ও উত্তর দিনাজপুর, এই ৮ জেলাতেই প্রায় ৪৮ লক্ষ মানুষের বসবাস। স্বাভাবিক ভাবেই এটি একটি বিরাট প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। এত জনসংখ্যা সামলাতে হয় এই জেলাগুলির প্রশাসনকে। প্রতিটি প্রত্যন্ত এলাকায় প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছনো দূরহ কাজ। যেমন উত্তর ২৪ পরগনাই ধরা যাক। এই জেলার আয়তন ৪ হাজার ৯৪ বর্গ কিলোমিটার। ভৌগলিক ভাবে বেশি বড় জেলা। কিন্তু জনসংখ্যার নিরিখেই ছোটো। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় প্রায় ১ কোটি মানুষের বসবাস।

পশ্চিমবঙ্গে কেন আরও জেলা দরকার?
পশ্চিমবঙ্গে কেন আরও জেলা দরকার?

প্রতি জেলায় গড়ে প্রায় ৪০ লক্ষ জনসংখ্যা

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার আয়তন ৯হাজার ৯৬০ বর্গ কিলোমিটার। প্রায় ৮১ লক্ষ জনসংখ্যা। আবার মুর্শিদাবাদের আয়তন ৫ হাজার ৩২৪ বর্গ কিলোমিটার। প্রায় ৭১ লক্ষ মানুষ বাস করেন।  শ্চিম মেদিনীপুরের আয়তন ৬ হাজার ৩০৮ বর্গ কিলোমিটার, প্রায় ৫৯ লক্ষ জনসংখ্যা। এবং গত ১৫ বছরে জনসংখ্যা আরও বেড়েছে। ২০১১ সালের আদমসুমিরার ডেটা অনুযায়ী, ২৩টি জেলায় প্রায় ৯ কোটি মানুষের বাস। অর্থাত্‍ প্রতি জেলায় গড়ে প্রায় ৪০ লক্ষ জনসংখ্যা। 

বিহার, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশের হাল কী?

ভারতের সবচেয়েবেশি জনসংখ্যা উত্তর প্রদেশে। ১৯ কোটি ৯৮ লক্ষ, অর্থাত্‍ প্রায় ২০ কোটি মানুষের বাস। কিন্তু উত্তর প্রদেশে জেলার সংখ্যা ৭৫। অর্থাত্‍ গড়ে প্রতি জেলায় প্রায় ২৬ লক্ষ মানুষ বাস করেন। আবার দেখুন বিহারে জনসংখ্যা ১০ কোটির কিছু বেশি। সেখানে ৩৮টি জেলা। অর্থাত্‍ জেলাভিত্তিক গড় জনসংখ্যা প্রায় ২৭ লক্ষ। রাজস্থানে ৬ কোটি ৮০ লক্ষ জনসংখ্যা।  ৪১টি জেলা। মধ্যপ্রদেশে ৭ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের বসবাস, সেখানে জেলার সংখ্যা ৫৫টি, মানে প্রতি জেলায় গড়ে ১৩ লক্ষ মানুষের বাস। ওড়িশায় জনসংখ্যা ৪ কোটি ২০ লক্ষের কাছাকাছি,কিন্তু জেলার সংখ্যা ৩০টি। প্রতি জেলায় গড়ে ১৪ লাখ মানুষের বসবাস। 

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্য সচিব (২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল) সংবাদমাধ্যম 'দ্য প্রিন্ট'কে জানান, পশ্চিমবঙ্গে জেলার সংখ্যা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। ভারতের যা জনসংখ্যা, তাতে জেলা ভিত্তিক ২০ থেকে ২৫ লক্ষ জনসংখ্যা আদর্শ। তিনি বলেন, 'এত জনসংখ্যার একটি জেলা প্রশাসনিকভাবে পরিচালনা করা অনেক সহজ হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বা নির্বাচন পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও তখন আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব।' একই সঙ্গে তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গে জেলার বিস্তীর্ণ ভৌগোলিক এলাকা ও বিপুল জনসংখ্যার কথা মাথায় রেখেই 'পুলিশ জেলা'র ধারণা চালু করা হয়েছিল। অর্থাৎ, একটি প্রশাসনিক জেলা থাকলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার সুবিধার জন্য সেটিকে একাধিক পুলিশ জেলায় ভাগ করা হয়েছে। একটি প্রশাসনিক জেলায় একজন জেলাশাসক থাকলেও সেখানে দু'টি বা তার বেশি পুলিশ জেলা থাকতে পারে। প্রতিটি পুলিশ জেলার দায়িত্বে থাকেন একজন করে পুলিশ সুপার, এবং তাঁদের আলাদা আলাদা প্রশাসনিক এলাকা বা অধিক্ষেত্র থাকে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাকে তিনটি পৃথক পুলিশ জেলায় ভাগ করা হয়েছে। ফলে সেখানে তিনজন পুলিশ সুপার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, যদিও প্রশাসনিকভাবে এটি এখনও একটি জেলা হিসেবেই রয়েছে।

POST A COMMENT
Advertisement