TMC Split: তৃণমূলের ভাঙন কেন মহারাষ্ট্রের 'শিন্ডে মডেলের' থেকে আলাদা? সেই সময় যা হয়েছিল...

ভেঙে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে চলে গিয়েছে দলের রাশ। আর এই ভাঙন কোথায় মহারাষ্ট্রের 'শিন্ডে মডেলের' থেকে আলাদা? জেনে নিন।

Advertisement
তৃণমূলের ভাঙন কেন মহারাষ্ট্রের 'শিন্ডে মডেলের' থেকে আলাদা? সেই সময় যা হয়েছিল...তৃণমূলে ভাঙন
হাইলাইটস
  • ভেঙে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে চলে গিয়েছে দলের রাশ
  • ই ভাঙন কোথায় মহারাষ্ট্রের 'শিন্ডে মডেলের' থেকে আলাদা?

৪ মে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের ফলাফল সামনে এসেছে। আর আজ ৪ জুন। এর মধ্যেই বাংলার রাজনীতিতে বিরাট পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। ক্ষমতা হারানোর মাত্র ১ মাসেই ভেঙে খান খান তৃণমূল কংগ্রেস। কার্যত দলের রাশ হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এখন তৃণমূলের বিধায়কদের নেতা হয়ে উঠেছেন একদা 'সিপিআইএম' ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে রয়েছে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন। সেই মতো তাঁকে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতিও দেওয়া হয়েছে। 

আর তৃণমূলের এহেন ভাঙনের পরই অনেকে বিজেপির দিকে আঙুল উঠতে শুরু করেছে। অনেকেই মনে করছেন, মহারাষ্ট্রের 'শিবসেনা মডেলেই' এ রাজ্যে তৃণমূলকে ভেঙেছে বিজেপি। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিষয়টা ঠিক তেমন নয়। তৃণমূলের এই ভাঙনের সঙ্গে 'শিন্ডে  মডেলের' কোনও মিল নেই। 

কী হয়েছিল শিবসেনার ক্ষেত্রে? 
২০২২ সালের জুন মাসে ভাঙে শিবসেনা। তখন মহারাষ্ট্রের ক্ষমতা ছিল শিবসেনার নেতৃত্বাধীন এমভিএ জোটের কাছে। সেই জোটে ছিল শিবসেনা, এনসিপি এবং কংগ্রেস। বিরোধী আসনে ছিল বিজেপি।

আসলে মহারাষ্ট্র বিধানসভার মোট আসন সংখ্যা ২৮৮টি। ২০১৯-এর ভোটে তৎকালীন বিরোধী পক্ষ বিজেপি ১০৬টি আসনে জেতে। শিবসেনা জেতে ৫৫টি আসন। এনসিপি জেতে ৫৩টি আসন এবং কংগ্রেস ৪৪টি আসন। এই সময়ই সেরা চাল দেয় বিজেপি। তারা শিবসেনার ঘরে ভাঙন ধরিয়ে ক্ষমতা দখল করে নেয়। 

২০১৯ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর শিবসেনা তাদের দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী বিজেপির হাত ছেড়ে দেয়। তার বদলে সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর দল কংগ্রেস এবং এনসিপি-এর সঙ্গে জোট করে। গঠিত হয় সরকার। শিবসেনার বহু বিধায়ক ও কট্টরপন্থী নেতা এই জোট মন থেকে মেনে নিতে পারেননি। তাদের অভিযোগ ছিল, কংগ্রেস-এনসিপির সঙ্গে জোট করায় দল তার মূল 'কট্টর হিন্দুত্ববাদী' আদর্শ থেকে সরে এসেছে। শিবসেনার এই অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও হিন্দুত্ববাদের আবেগকে খুব সূক্ষ্মভাবে কাজে লাগায় বিজেপি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক দলের একাংশ।

Advertisement

দল ভাঙার জন্য বিজেপি শিবসেনার জনপ্রিয় নেতা একনাথ শিন্ডেকে বেছে নেয়। শিন্ডের মধ্যেও উদ্ধব ঠাকরের কাজ করার ধরন এবং দলের মধ্যে আদিত্য ঠাকরের উত্থান নিয়ে ক্ষোভ ছিল। এই সময় বিজেপি শিন্ডেকে আশ্বস্ত করে যে, তিনি যদি পর্যাপ্ত বিধায়ক নিয়ে বেরিয়ে আসেন, তবে তাঁকে পূর্ণ রাজনৈতিক সমর্থন দেওয়া হবে। 

এমন পরিস্থিতিতে ২০২২ সালের জুন মাসে শিবসেনা দলের মধ্যে বিদ্রোহ শুরু হয়। বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই ভাঙনে সরাসরি সাপোর্ট দেয়। যতদূর খবর, বিজেপির দক্ষ আইনি দল পর্দার আড়াল থেকে বিদ্রোহী বিধায়কদের গাইড করছিল। দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে শিন্ডের প্রয়োজন ছিল শিবসেনার মোট বিধায়কের দুই-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ অন্তত ৩৭ জন বিধায়ক সমর্থন। বিজেপি গুয়াহাটিতে বসেই সেই সংখ্যা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। শেষ পর্যন্ত শিন্ডে শিবসেনার ৫৫ জন বিধায়কের মধ্যে ৪০ জনকে নিজের পক্ষে টেনে নেন।

বিদ্রোহী বিধায়কদের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়ার পর তৎকালীন রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারি বিধানসভায় আস্থা ভোটের নির্দেশ দেন। উদ্ধব ঠাকরে বুঝতে পারেন, তাঁর কাছে সংখ্যা নেই। তাই আস্থা ভোটের ঠিক আগের দিন ২৯ জুন, ২০২২-এ তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। উদ্ধব ঠাকরের পদত্যাগের পরের দিন ৩০ জুন ২০২২-এ বিজেপি ঘোষণা করে যে তারা একনাথ শিন্ডেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দেবে। দেবেন্দ্র ফড়ণবীস উপ-মুখ্যমন্ত্রী হন। পরবর্তীতে ভারতের নির্বাচন কমিশনও শিন্ডের দলকেই আসল 'শিবসেনা' হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী 'তীর-ধনুক' প্রতীক তাদের হাতে তুলে দেয়। 

কেন তৃণমূলের ভাঙন আলাদা? 
আসলে মহারাষ্ট্রে বিরোধী দল হিসেবে কাজ করছিল বিজেপি। তাই শিবসেনাকে ভাঙিয়ে সরকারে এসেছিল তারা। কিন্তু বাংলার বিষয়টা আলাদা। এখানে ইতিমধ্যেই ২০৯ আসনে জিতে রয়েছে বিজেপি। তাই সেই অর্থে তৃণমূলকে ভেঙে সরকার গড়ার প্রয়োজন নেই তাদের। 

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছে, বিজেপি চায় না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের মতো একটি দল বিরোধী হিসেবে থাকুক। বরং বিরোধী হিসেবেও তারা 'সহজ' কোনও দলকে চাইছে। সেই মতো ঋতব্রতকে বিরোধী নেতা করে নতুন তৃণমূলকে আদতে বিজেপিই পরিচালনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এই সবই জল্পনা। এই ভাঙনের নেপথ্যে আসল সত্যিটা কী, সেটা ধীরে ধীরেই প্রকাশ পাবে।

 

POST A COMMENT
Advertisement