মমতাবালা ঠাকুর এবং শান্তনু ঠাকুর। ছবি: দীপক দেবনাথশরনার্থীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বলা হয়েছে গুজরাত, রাজস্থান, ছত্রিশগড়, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের ১৩ টি জেলায় বসবাসরত অ-মুসলিম শরণার্থীরা নাগরিকত্ব গ্রহণের জন্য আবেদন জানাতে। এর পরই মুখ খুলেছেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর এবং তৃণমূলের মমতাবালা ঠাকুর।
শনিবার শান্তনু ঠাকুর জানান, একটা গেজেট বিজ্ঞপ্তি বেরিয়েছে, দেখেছি। সেখানে পাঁচ রাজ্যের জেলাশাসকদের বলা হয়েছে সিএএ নিয়ে তত্ত্বাবধান করতে। যাই হোক, প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এর জন্য সাধুবাদ জানাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে।
তিনি বলেন, তবে সেটা বাংলার জন্যে হলেও ভাল হত। কারণ উদ্বাস্তু সমস্যার মূল কেন্দ্রবিন্দু হল বাংলা। তাই এখানে এই আইন লাগু হলে বা বিধি প্রণয়ন হলে ভাল হত। আমরা আশা রাখি, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এটা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করবে এবং সে দিকে এগোবে।
এদিন তিনি আরও বলেন, সেই কাজ শুরু করেছে ওরা। আমরা মৌখিক ভাবে জানিয়েছি। ওই দেশের যাঁরা সংখ্যালঘু, তাঁরা নাগরিত্ব পাবেন।
শান্তনুর প্রশ্ন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন এই বিধি প্রণয়ন করতে দিচ্ছেন না? কেন তিনি মানবিক দিক দিয়ে দেখছেন না? মুখ্যমন্ত্রী ক্লিনচিট দিক, আমরা করে দিচ্ছি।
তাঁৎ দাবি, এই সরকার সিএএ লাগু চালু করতে কোনও রকম সহায়তা করছে না। উল্টে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ধ্বংস করা হচ্ছে। দাঙ্গার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর জানান, ছত্রিশগড় বাদে অন্য রাজ্যগুলিতে এই সমস্যা উদ্বাস্তু সমস্যা নেই। হঠাৎ করে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হল। এর অর্থ হল পুরো ভারতের যেখানে যেখানে উদ্বাস্তু বসবাস করছেন, সেখানে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করার জন্য এটা করা হচ্ছে।
তাঁর আরও দাবি, অসমে যেভাবে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, ঠিক সেভাবেই এই পাঁচ রাজ্যের সেই পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার।
মমতাবালার দাবি, পশ্চিমবাংলায় এটা করেনি তার কারণ, তারা জানে এর ফলে এখানে আন্দোলন শুরু হতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় রাজ্যে ক্ষমতায় আছে বলে আমরা যারা ওপার বাংলার মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ- তারা ভালো আছি।
তিনি বলেন, বাংলায় এটা করেনি। এখনই কোনও আন্দোলন শুরু হবে, তাই ছোট ছোট করে কাজ করছে। অসম থেকে শেখেননি। অসম থেকে দেখে আমরা কি শিক্ষা নেব না।
তিনি বলেন, ছত্তিসগড়ে যাঁরা আছেন, তাঁরা উদ্বাস্তু। আমাদের মা-বাবা অখন্ডে ভারতে জন্মেছেন। আমাদের কেন পরিচয় দিতে হবে? এই আইনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি।