USS Gerald R: ইরানকে যুদ্ধের আল্টিমেটাম দিয়ে দিলেন ট্রাম্প, ডেডলাইন দিয়ে বললেন...

পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে আলোচনা চললেও আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বাড়ছে। এসবের মধ্যেই পারস্য উপসাগরে বিশ্বের বৃহত্তম ও অত্যাধুনিক বিমানবাহী রণতরী USS Gerald R. Ford মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম The New York Times জানিয়েছে, একাধিক শীর্ষ মার্কিন কর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

Advertisement
ইরানকে যুদ্ধের আল্টিমেটাম দিয়ে দিলেন ট্রাম্প, ডেডলাইন দিয়ে বললেন...আমেরিকার রণতরী।-ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে আলোচনা চললেও আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বাড়ছে।
  • এসবের মধ্যেই পারস্য উপসাগরে বিশ্বের বৃহত্তম ও অত্যাধুনিক বিমানবাহী রণতরী USS Gerald R. Ford মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা।

পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে আলোচনা চললেও আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বাড়ছে। এসবের মধ্যেই পারস্য উপসাগরে বিশ্বের বৃহত্তম ও অত্যাধুনিক বিমানবাহী রণতরী USS Gerald R. Ford মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম The New York Times জানিয়েছে, একাধিক শীর্ষ মার্কিন কর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রথমে শোনা গিয়েছিল, USS George H. W. Bush পাঠানো হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত ফোর্ডকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, আলোচনা ভেস্তে গেলে সামরিক পদক্ষেপের পথ খোলা থাকবে।

বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী
জেরাল্ড আর. ফোর্ড শ্রেণির এই রণতরী ২০১৭ সালে কমিশন করা হয়। প্রায় ৩৩৭ মিটার দীর্ঘ এই জাহাজে একসঙ্গে প্রায় ৭৫ থেকে ১০০টি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা যায়। এতে রয়েছে অত্যাধুনিক ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট ব্যবস্থা ও উন্নত গ্রেপ্তার প্রযুক্তি। প্রায় সাড়ে চার হাজার সেনা বহনে সক্ষম এই জাহাজকে মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।

এর আগে এটি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে মোতায়েন ছিল। এখন মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে ইতিমধ্যেই USS Abraham Lincoln সহ একাধিক মার্কিন রণতরী অবস্থান করছে। ফলে এই অঞ্চলে আমেরিকার বিমান শক্তি কার্যত দ্বিগুণ হতে চলেছে।

ট্রাম্পের কড়া বার্তা
ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, 'হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছব, না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' তাঁর প্রশাসন ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতিতে বিশ্বাসী, নিষেধাজ্ঞা, সামরিক উপস্থিতি ও কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে নতুন চুক্তিতে বাধ্য করাই লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পুরনো পরমাণু চুক্তি Joint Comprehensive Plan of Action (JCPOA) থেকে সরে আসে। এখন ওয়াশিংটন চাইছে আরও কঠোর শর্তে নতুন চুক্তি।

কেন বাড়ছে উত্তেজনা?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযোগ, ইরান অস্ত্র-গ্রেড পর্যায়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। অন্যদিকে ইরান দাবি করছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই।

Advertisement

এদিকে ইজরায়েল-ইরান সংঘাত, ইয়েমেনে হুথিদের হামলা এবং গাজা যুদ্ধ, সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন রণতরী মোতায়েনকে বিশেষজ্ঞরা ‘কৌশলগত বার্তা’ বলেই মনে করছেন, ওয়াশিংটন তার শক্তি ও উপস্থিতি স্পষ্টভাবে দেখাতে চাইছে।

এরপর কী?
ফোর্ডের মোতায়েন নিঃসন্দেহে ইরানের উপর চাপ বাড়াবে। ভবিষ্যতে আরও একটি মার্কিন ক্যারিয়ার গ্রুপ ওই অঞ্চলে যোগ দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। তবে এখনো কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ রয়েছে। আলোচনা সফল হলে উত্তেজনা প্রশমিত হতে পারে, আর ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

 

POST A COMMENT
Advertisement