তৃণমূলের সমাজমাধ্যমে শেয়ার করা ভিডিওর স্ক্রিনশট।বৃহস্পতিবার দুপুরে মমতার বাড়িতে পৌঁছলেন সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব। তাঁকে স্বাগত জানাতে দাঁড়িয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গাড়ি থেকে নেমেই তিনি জড়িয়ে ধরেন অভিষেককে। বলেন, 'তুমি খুব ভালো কাজ করেছ।' এরপরই তিনি এগিয়ে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরের দিকে। সেখানে দাঁড়িয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী। তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে দিতে দিতে অখিলেশ বলেন, দিদি, আপনি হারেন নি। মমতাও বলেন, হ্যাঁ আমরা হারিনি। এরপর মমতা অখিলেশকে নিয়ে ঘরে বসান।
এদিকে, উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মাত্র তিন মাস আগে ভোটকুশলী সংস্থা ‘ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি’ (আই-প্যাক)-এর সঙ্গে চুক্তি করেছিল সমাজবাদী পার্টি। কিন্তু বুধবার আচমকাই সেই সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ঘোষণা করলেন দলের প্রধান তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব।
২০২৭ সালের গোড়ায় উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই ভোটে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে লড়াইয়ে নামবে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বিজেপি। অন্যদিকে, লোকসভা নির্বাচনের সাফল্যকে পুঁজি করে ফের লখনউ দখলের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে সমাজবাদী পার্টি। সেই লক্ষ্যেই চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আই-প্যাকের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন অখিলেশ। পাশাপাশি ‘শোটাইম’ নামের আরও একটি সংস্থাকেও নির্বাচনী প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
তবে মাত্র তিন মাসের মধ্যেই কেন আই-প্যাকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা হল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। বুধবার এ বিষয়ে অখিলেশ বলেন, 'ওরা কিছুদিন আমাদের জন্য কাজ করছিল, কিন্তু এখন আমাদের কাছে পর্যাপ্ত তহবিল নেই।'
যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। তাঁদের মতে, সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল এবং তামিলনাড়ুতে ডিএমকে আই-প্যাকের নির্বাচনী কৌশলের উপর নির্ভর করেও প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি। সেই অভিজ্ঞতার প্রভাবেই অখিলেশ হয়তো আগেভাগেই দূরত্ব তৈরি করলেন।
তবে এই জল্পনাকে উড়িয়ে দিয়ে সমাজবাদী পার্টি প্রধান স্পষ্ট জানিয়েছেন, 'পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুর ভোটের সঙ্গে আমাদের এই সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক নেই।'