
লাইভ টেলিকাস্টে সঞ্চালক উচ্ছ্বসিত হয়ে বললেন, ‘ওয়াইজম্যান, গ্লোভার, ক্রিস্টিনা, জেরেমি, ওয়েলকাম ব্যাক টু হোম!’ ৪০ হাজার কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় ২ হাজার ৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় প্রশান্ত মাহসাগরে স্প্ল্যাশডাউন করে NASA-র আর্টিমিস II. কিন্তু যাত্রাটা মোটে সহজ ছিল না।

গ্রিনিচ মিন টাইম অনুযায়ী, ১১টা ৫৩ মিনিটে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ওরিয়ন। ততক্ষণে মহাকাশযানের গতিবেগ ঘণ্টায় ৩৯ হাজার ৬৮৮ কিলোমিটার।

বায়ুমণ্ডলের তীব্র ঘর্ষণ ভেদ করে চার মহাকাশচারীকে নিয়ে ক্যাপসুল ছুটে আসছে পৃথিবীর বুকে। সর্বোচ্চ পর্যায়ে এই গতিবেগ ছিল শব্দের গতির ৩০ গুণ এবং তাপমাত্রা ছিল সূর্যের পৃষ্ঠতলের তাপমাত্রার অর্ধেক।

ঝুঁকিপূর্ণ ‘ব্ল্যাক আউট’ টাইম ছিল প্রায় ৬ মিনিট। দ্রুতগতিতে ক্যাপসুল পৃথিবীর বুকে নেমে আসার সময়ে কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল সে সময়ে। এই ছয় মিনিট ধরে স্নায়ুচাপ বাড়ছিল।

সবার আশা-ভরসা ছিল ক্যাপসুলের জীবনরক্ষাকারী 'হিট শিল্ড' বা তাপ-প্রতিরোধক বর্ম। ২০২২ সালে আর্টেমিস ১ মিশনের সময়ে মহাকাশযানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'হিট শিল্ড' অপ্রত্যাশিতভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছিল। ক্ষয়ের ফলে শিল্ডটির বাইরের অংশটি পুড়ে গিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এ বার ক্যাপসুলের জন্য একটি অপেক্ষাকৃত উলম্ব ও সংক্ষিপ্ত গতিপথ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

যখন কোনও মহাকাশযান বা ক্যাপসুল পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে এবং নিরাপদে অবতরণের জন্য প্যারাসুটের মাধ্যমে সমুদ্র বা বড় আকারের জলাশয়ে অবতরণ করে, তখন তাকে স্প্ল্যাশডাউন বলা হয়।

স্প্ল্যাশডাউন পদ্ধতি সাধারণত মহাকাশযানের পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তনের সময় ব্যবহৃত হয়। এই পদ্ধতির মাধ্যমে ক্যাপসুল থেকে প্যারাসুটের সাহায্যে সমুদ্রে বা অন্য কোনও জলাশয়ে অবতরণ করে।

স্প্ল্যাশডাউনের সময় ক্যাপসুলটি দু’টি প্যারাসুট দ্বারা সজ্জিত থাকে। যদিও একটি প্যারাসুটই নিরাপদ অবতরণের জন্য যথেষ্ট।

এই স্প্ল্যাশডাউন পদ্ধতি বহুল ব্যবহৃত এবং নিরাপদ হলেও অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটেছে মহাকাশযান অবতরণের সময়ে।