
ইরান যুদ্ধে ভারতের কূটনীতির জয়! ভারতের জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ ভাবে খুলে দিল ইরান। জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের পতাকা ওড়া জাহাজকে কোনও ভাবেই আটকানো হবে না বা হামলা চালানো হবে না। যার নির্যাস, ইরান থেকে তেল ও গ্যাস অবাধ ভাবে আসতে পারবে ভারতে।

ইরান জানিয়েছে, ভারত সহ ইরানের সব বন্ধু রাষ্ট্রই হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবে। ভারত ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে রাশিয়া, চিন, পাকিস্তান ও ইরাক। এই দেশগুলি হরমুজ দিয়ে তেল ও গ্যাস বোঝাই জাহাজ বিনা বাধায় নিয়ে যেতে পারবে।

ইরানের সরকারি টিভি-তে একটি সাক্ষাত্কারে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরঘাজি বলেন, হরমুজ প্রণালী এখনও সম্পূর্ণ বন্ধ নয়। শত্রু রাষ্ট্র, যেমন আমেরিকা, ইজরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের যে দেশগুলি ওদের সাহায্য করছে, তাদের জন্য বন্ধ।

আরঘাজির কথায়, 'অনেক জাহাজ মালিক বা যেসব দেশের এই জাহাজগুলি রয়েছে, তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং অনুরোধ করেছেন যাতে আমরা হরমুজ প্রণালী দিয়ে তাদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করি। যেসব দেশকে আমরা বন্ধুপ্রতীম মনে করি অথবা অন্য কোনও বিশেষ কারণে যেখানে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেসব ক্ষেত্রে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তাদের নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করে দিয়েছে।'

তিনি আরও যোগ করেন, 'আপনারা খবরে দেখেছেন, চিন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক এবং ভারত। দু-তিন দিন আগে ভারতের দুটি জাহাজ এখান দিয়ে পার হয়েছে। এছাড়া আরও কিছু দেশ, এমনকি আমার বিশ্বাস বাংলাদেশও এর মধ্যে রয়েছে। এই দেশগুলি আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে এবং সমন্বয় করেছে। যুদ্ধের পরেও ভবিষ্যতেও এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।'

উপসাগরীয় এলাকায় এই সরু প্রণালী দিয়েই বিশ্বের মোট অশোধিত তেলের ২০ শতাংশ নিয়ে যাওয়া হয়। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ। ইরানের সবচেয়ে বড় সম্পদ তেল। একই সঙ্গে বিরাট সম্পদ হল হরমুজ প্রণালী। এমন এক সমুদ্রপথ, যা বন্ধ রাখা মানে বিশ্বে অশোধিত তেলের দাম একেবারে আকাশছোঁয়া হতে পারে।

শুধু ভারতেই নয়, জিনিসপত্রের দাম বাড়তে পারে বিশ্বজুড়ে। বিশেষ করে ভারত, চিন ও জাপান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কারণ, এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই অশোধিত তেল ভারত, চিন, জাপান সহ বেশ কয়েকটি দেশে যায়।

হরমুজ প্রণালীটি উত্তর ইরান সংলগ্ন। দক্ষিণে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। প্রায় ৫০ কিমি চওড়া। সবচেয়ে সরু এলাকাটি মাত্র ৩৩ কিমি চওড়া। আরব সাগরের সঙ্গে গাল্ফের সংযোগ এই প্রণালী। তবে এই প্রণালী খুবই গভীর। ফলে তেলের ট্যাঙ্কার অনায়াসেই চলাচল করতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে যা তেল উত্পাদন হয়, তার বেশির ভাগই এই প্রণালী দিয়ে বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিদিন হমুজ প্রণালী দিয়ে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অশোধিত তেল পাশ করানো হয়। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ভারতীয় মুদ্রায় ৫০ লক্ষ কোটি টাকার বাণিজ্য চলে এই প্রণালীতে।

শুধু ইরান নয়, ইরাক, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সহ সব গাল্ফ দেশেরই উত্পাদিত তেল এই প্রণালী দিয়ে বিভিন্ন দেশে পৌঁছয়। প্রতি মাসে প্রায় ৩ হাজারের বেশি তেলবাহী জাহাজ চলাচল করে এই সরু প্রণালী দিয়ে।