scorecardresearch
 
বিশ্ব

Nazare Waves: স্যাটেলাইটে ধরা পড়ল রাক্ষুসে ঢেউ, এত উঁচু কখনও দেখা যায়নি

নাজারের ঢেউ
  • 1/11

২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর এর ঘটনা। পর্তুগালের ছোট শহর নাজারে। এখানে সমুদ্র প্রায়ই বিশাল বিশাল ঢেউ নিয়ে আসে। ভয়ঙ্কর এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। কিন্তু এই সমস্ত ঢেউয়ে সারফিং করার প্রতিযোগিতা হয়। এখানে নীচে ঢেউয়ের ওপর প্রতিযোগিতা হচ্ছে। অন্যদিকে নাসার স্যাটেলাইটে এই জায়গার ছবি তোলা হয়। সমুদ্রের ভেতরে শহর এর তটে গভীর সবুজ রঙের ঝলক দেখা যাচ্ছিল। যা আসলে দৈত্যাকার ঢেউ।

নাজারের ঢেউ
  • 2/11

যখন ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২ এ ওই জায়গার ছবি নেওয়া হয়। তখন বিষয়টি সম্পূর্ণ ভাবে উল্টো ছিল। ঢেউ ছিল না। সমুদ্র শান্ত ছিল। কোনও মেঘও গো দেখা যাচ্ছিল না আকাশে। এখন আবার দু'বছর আগে কাহিনী যদি ব্যাখ্যা করি, তাহলে সার্ফিংয়ের প্রতিযোগিতার দিন পর্তুগালের এক ১৮ বছর বয়সী সার্ফার অ্যান্তোনিও লরিয়ানো ১০১.৪ ফুট ঢেউয়ের ওপর সার্ফিং করে নতুন রেকর্ড তৈরি করে।

নাজারের ঢেউ
  • 3/11

ওইদিনই উপর থেকে নাসার স্যাটেলাইট ল্যানসেট এই ছবি তুলেছে। এখন নাজারের ঢেউয়ের এই সৌন্দর্য এবং দৃশ্য আপনার সামনে তুলে ধরা হলো। অন্তরীক্ষ থেকে তেমন তো দেখা যাবে না, কিন্তু নগরের প্রসিদ্ধ নর্থ বিচ থেকে উঁচু উঁচু ঢেউ ধাক্কা দিচ্ছিল। ফেনাতে ভরা সমুদ্র দেখা যাচ্ছিল। হাজার হাজার লোক সার্ফিংয়ের আনন্দ লাভ করেছিলেন।

নাজারের ঢেউ
  • 4/11

যেই ঢেউ এর ছবি নাসার স্যাটেলাইট তুলেছিল, তা প্রায় সাত তলা পর্যন্ত উঁচু। অবজারভেটরি বক্তব্য অনুযায়ী এই ঢেউ সমুদ্রের ভেতর ১০ কিলোমিটার এলাকা নাড়িয়ে দেয়। শীতকালে নাজারের ঢেউ ৫০ থেকে ১০০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়ে যায়। এটা এ কারণে হয় কারণ এখানে সমুদ্রতটের পাশে সমুদ্রের নীচে ক্যানিয়ন রয়েছে।

নাজারের ঢেউ
  • 5/11

এই ক্যানিয়নের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ঢেউগুলি এতগুলো রূপ ধারণ করে। অন্য মজাদার বিষয়টা হলো যে ওই দিন ২৯ অক্টোবর ২০২০তে এই এলাকাতে হ্যারিকেন এপসিলনও প্রভাব ফেলেছিল। দ্রুত গতিতে চলছিল হাওয়া। আমেরিকার কিছু এলাকায় ঐদিন ব্যাপকভাবে ধরা দেয় অর্থাৎ সমুদ্র ক্যানিয়ন এর সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে এই দ্রুতগতির হাওয়া সঙ্গে মিলে এই ঢেউ আকাশ ছুঁয়ে নিয়েছিল।

নাজারের ঢেউ
  • 6/11

ঐদিন সার্চিং এর রেকর্ড বানানো আন্তোনিও লরিয়াল জানিয়েছেন যে, ছোটবেলা থেকে শপিং করছি। কিন্তু যেমনই আমি ওই বড় ঢেউ উপর চড়তে শুরু করি, তখন আমার মনে হয় যে সত্যিই এটি অত্যন্ত বড় এটা কোন রাক্ষসের চেয়ে কম নয়। এই ঢেউটি এর সবচেয়ে বড় ঢেউ ছিল তারপরে আমি কখনও এতো বড় ঢেউয়ের ওপর সার্ফিং করিনি।

নাজারের ঢেউ
  • 7/11

সার্ফিং এর পর আন্তোনিও লরিয়ানো ঢেউয়ের  ভিডিও ইউনিভার্সিটি অফ লিসবনের বিজ্ঞানীদের কাছে পাঠান। যাঁরা ঢেউয়ের আকারের অনুমান করেন। ইউনিভার্সিটির সমুদ্রবিজ্ঞানী মিগুয়েল মইরা জানিয়েছেন আমরা যখন ঢেউ পরীক্ষা করি, তখন তা সবচেয়ে উঁচু এবং নিচু পয়েন্ট এর গণনা করা হয়। তখনই জানা যায় এই ঢেউয়ের উচ্চতা এবং পরিধি কতটা।

নাজারের ঢেউ
  • 8/11

মিগুয়েল জানিয়েছেন যে আমাদের সফটওয়্যার জানিয়েছে যে ১০১.৪ ফিট অর্থাৎ প্রায় ৩০.৯ মিটার উঁচু হয়েছিল। মানুষের চড়া সবচেয়ে বৃহৎ ঢেউ। ওয়ার্ল্ড সার্ফ লিগ (WSO) সবচেয়ে বড় হিসেব মানেনি। কারণ এর গণনা যেভাবে করা হয়েছে তা তারা মান্যতা দিচ্ছেন না। তাদের হিসেবে ২০১৭ সালে ব্রাজিলের সার্ফার ২০৮০ ফুট উঁচু ঢেউয়ে সার্ফিং করেছিলেন। সেটি সবচেয়ে উঁচু।

নাজারের ঢেউ
  • 9/11

ডাবলু এস এল এর বক্তব্য অনুযায়ী ওই ঢেউয়ের গণনা ঢেউয়ের সামনে দাঁড়িয়ে বা তার পেছন থেকে করা হয় এবং তখন যদি করা হয় যখন ঢেউটি ভাঙতে শুরু করেছে, তাহলে তা মান্যতা পায়। কিন্তু যেদিন আন্তোনিও লরিয়াল রেকর্ড বানিয়েছে সেদিন ডাবলু এস এল টিমের কোন আধিকারিক সেখানে হাজির ছিলেন না। এ কারণে তারা রেকর্ড মান্যতা প্রাপ্ত দেবেন না।

নাজারের ঢেউ
  • 10/11

পর্তুগালে হাইড্রোগ্রাফিক ইনস্টিটিউট এর বক্তব্য নিয়ে সমুদ্রের ভেতরে মজুত থাকা নাজারের ক্যানিয়ন এর কারণেই এই উঁচু ঢেউ ওঠে। এই ক্যানিয়ন প্রায় ২৩০ কিলোমিটার লম্বা এবং ৫ কিলোমিটার গভীর। আসলে যখন ঢেউয়ের উপর দিয়ে বয়ে যায়, তখন তার নীচু অংশ ঘাঁটিতে নিজের পুরনো গতিতেই থাকে। কিন্তু উপরের অংশ ঘাঁটির কারণে মন্থর হয়ে যায়। এই ঢেউয়ের সাগর সেখানে পিছনের দিকে মুড়তে শুরু করে। কিন্তু নিচের অংশ সামনের দিকে আসে দুই অংশের সংঘর্ষে এটি অনেক উঁচুতে পৌঁছে যায়।

 

নাজারের ঢেউ
  • 11/11

এরকম দক্ষিণ-পশ্চিম ঢেউ এবং উত্তর-পশ্চিম ঢেউ নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, তখন এই রকম বড় বড় ঢেউ তৈরি করে। যার ওপরে আন্তোনিও লরিয়াল সার্ফিং করেছিলেন। সাধারণভাবে এত ঢেউ শুধুমাত্র শীতকালে দেখা যায়। এমনটা মনে করা হচ্ছে যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নাজারের ঢেউয়ের আমেজ এবং তীব্রতা বদলে গিয়েছে। এটা হতে পারে যে আবহাওয়া খারাপ থাকার সময়ে এই ঝড়ের তীব্রতা এবং উচ্চতা ৫ থেকে ১৫ শতাংশ বেড়ে যায়।

 
; ; ;