
হুট করে প্ল্যান করেই থাইল্যান্ড পাড়ি দেওয়া একটু চাপ হয়ে গেল ভারতীয়দের কাছে। ভিসা ফ্রি এন্ট্রি তালিকা থেকে ভারতকে সরিয়ে দিল থাইল্যান্ড।

রিভাইজড পলিসিতে জানানো হয়েছে, ভারতীয় পর্যটকরা থাইল্যান্ড বেড়াতে গেলে ভিসা লাগবে। সে ক্ষেত্রে ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা পাবেন। অর্থাত্ থাইল্যান্ডে পৌঁছে সে দেশে ঢোকার জন্য ভিসা মিলবে, ভিসা অন অ্যারাইভালের শর্ত মেনে।

করোনা অতিমারীর পরে থাইল্যান্ড সরকার পর্যটন শিল্পকে চাঙ্গা করতে ৬০ দিনের ভিসা ফ্রি পলিসি চালু করেছিল। ভারত থেকে প্রচুর মানুষ থাইল্যান্ড বেড়াতে যান।

কিন্তু গত ১৯ মে থাইল্যান্ড সরকার এই পলিসি পুনর্বিবেচনা করে। তাদের বক্তব্য, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে ও অভিবাসন নীতি কড়া করতেই তারা অতীতের সিদ্ধান্ত বাতিল করছে।

অফিসিয়াল আপডেট অনুযায়ী, থাইল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ভারত সহ যে ৯৩টি দেশের নাগরিককে থাইল্যান্ডে ৬০ দিনের ভিসা ফ্রি এন্ট্রির ছাড় দেওয়া হয়েছিল,তা তুলে নেওয়া হল।

৪টি দেশকে ভিসা অন অ্যারাইভাল আওতায় রাখা হয়েছে। এগুলি হল ভারত, আজারবাইজান, বেলারুস ও সার্বিয়া। এই ৪ দেশের পর্যটকরা থাইল্যান্ডে ভিসা অন অ্যারাইভালের সুবিধা পাবেন।

নতুন ভিসা নীতিতে বিদেশি পর্যটকদের জন্য একাধিক ক্যাটেগরি তৈরি করেছে থাইল্যান্ড। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর-সহ ইউরোপের একাধিক দেশের নাগরিকরা এখন থাইল্যান্ডে ৩০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারবেন।

পাশাপাশি সেশেলস, মালদ্বীপ এবং মরিশাসের নাগরিকদের জন্য আলাদা করে ১৫ দিনের ভিসা-মুক্ত প্রবেশের সুবিধাও চালু করা হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে পর্যটন শিল্পে নতুন গতি আনতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছিল থাইল্যান্ড। সেই সময় ভারত-সহ ৯০টিরও বেশি দেশের নাগরিকদের জন্য ৬০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়াই থাইল্যান্ডে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। করোনা পরবর্তী সময়ে পর্যটকদের ফের টানতেই এই আগ্রাসী ‘ট্যুরিজম রিভাইভাল’ নীতি নিয়েছিল ব্যাংকক। কিন্তু এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে সেই সিদ্ধান্ত থেকে অনেকটাই সরে এল থাই সরকার।

প্রশাসনের দাবি, বিদেশি নাগরিকদের জড়িয়ে বেআইনি কার্যকলাপ, অবৈধ ব্যবসা এবং নিয়মভঙ্গের ঘটনা বাড়তে থাকায় এবার ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি আনা হচ্ছে। সেই কারণেই আগের বিস্তৃত ভিসামুক্ত সুবিধা আংশিক ভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নতুন নিয়মে বিভিন্ন দেশের জন্য আলাদা আলাদা ক্যাটেগরি তৈরি করা হয়েছে।

ফলে এখন আর আগের মতো দীর্ঘ সময় ভিসা ছাড়া থাকার সুযোগ মিলবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। থাইল্যান্ড সরকারের এই সিদ্ধান্তকে পর্যটন এবং নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা হিসেবেই দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।