
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা। তবে কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেল? জল্পনা উস্কে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়েই ট্রেন্ডিং #WorldWarIII. তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ কামার আগা বলছেন, 'বিশ্বযুদ্ধের জন্য কোনও নির্দিষ্ট মানদণ্ড নেই। প্রতিটি বহুদেশীয় সংঘাতকে বিশ্বযুদ্ধ বলা যায় না।'

বিশেষজ্ঞ কামার আগার কথায়, 'একটি যুদ্ধকে বিশ্বযুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা হয় যখন তা একাধিক মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বের প্রধান শুক্তিগুলোকে মুখোমুখি করে এবং বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলে। যদিও বর্তমান পরিস্থিতি অবশ্যই গুরুতর, তবে এটিকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বলা যায় না।'

কামার আগা ব্যাখ্যা করেন, ইতিহাসে বিশ্বযুদ্ধের কোনও সরকারি সংজ্ঞা নেই। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি রয়েছে। যুদ্ধটি কেবল একটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইউরোপ এবং আফ্রিকার মতো একাধিক মহাদেশ জুড়ে বিস্তৃত হওয়া উচিত।

এছাড়াও প্রধান সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিগুলিকে সরকারি একে অপরের মুখোমুখি হতে হবে যুদ্ধে, তবেই সেটি বিশ্বযুদ্ধ। পাশাপাশি সংঘাতটি কেবল মাস নয়, বছরের পর বছর ধরে চলতে হবে এবং বিশ্ব অর্থনীতি, তেল সরবরাহ, সমুদ্রপথ, বাণিজ্য এবং বিমান পরিবহণের উপর প্রভাব ফেলবে।

১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ হয়। অস্ট্রিয়ার আর্চডিউক ফার্ঞ্জ ফার্ডিনান্ডের হত্যাকাণ্ড ইউরোপে উত্তেজনার সৃষ্টি করে। সেই সময়ে অনেক দেশ ২টি প্রধান শিবিরে বিভক্ত হয়ে যায়। একটি দেশ আক্রমণ করা হলে তার মিত্র দেশগুলিও তখন ঝাঁপিয়ে পড়ত। এই সংঘাত ইউরোপ ছাড়িয়ে এশিয়া, আফ্রিকা এবং মধ্যেপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ২টি প্রধান শিবির ছিল। মিত্রশক্তি: আমেরিকা, ফ্রান্স, রাশিয়া। পরে আমেরিকা যোগ দেয়। অ্যাক্সিস পাওয়ার ছিল, হাঙ্গেরি, অটোমন সাম্রাজ্য। এই যুদ্ধ ১৯১৮ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল। লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিল। বড় বড় সাম্রাজ্য ভেঙে পড়েথিল। বিশ্বের রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তিত হয়েছিল। প্রথমে মহাযুদ্ধ নামে পরিচিত হলেও পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নাম অনুসারে এটিকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের নাম দেওয়া হয়।

১৯৩৯ সালে জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করার পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। এরপর যুদ্ধ সমগ্র ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে এবং শীঘ্রই এশিয়া, আফ্রিকা এবং প্রশান্ত মহাসাগরে পৌঁছে যায়।

এবারের যুদ্ধে মিত্রশক্তি ছিল: আমেরিকা, ব্রিটেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন, চিন। অ্যাক্সিস পাওয়ার ছিল:জার্মানি, ইতালি, জাপান। যুদ্ধটি ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল। লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি গটে। জাপানের উপর পরমাণু বোমা ফেলা হয়। এর ফলে রাষ্ট্রসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ বদলে যায়।

যদিও অনেক দেশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে কোনও সংঘাতে জড়িত থাকতে পারে। যেমন সাহায্য প্রদান, অস্ত্র সাহায্য অথবা সীমিত সামরিক পদক্ষেপ। এক্ষেত্রেও তাই চলছে। তবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে একাধিক দেশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে গেলেও কোনও পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র সংঘাতে জড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি। বিশ্বযুদ্ধেরও কোনও ঘোষণা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বর্তমান পরিস্থিতিকে আঞ্চলিক বলেই মনে করছেন, বিশ্বযুদ্ধ নয়।

যদি বৃহৎ শক্তিধর দেশগুলি সরাসরি সংঘাতে জড়ায়, যুদ্ধ একাধিক মহাদেশে তা ছড়িয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ সময় ধরে তা চলে তবেই এটিকে বিশ্বযুদ্ধ বলা যাবে।