১০ দিন ধরে ইসলামাবাদে 'লকডাউন, চরম সঙ্কটে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ

ইরান-সংক্রান্ত সম্ভাব্য আলোচনার জেরে গত ১০ দিন ধরে কার্যত লকডাউনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। শহরের প্রধান রাস্তাগুলি বন্ধ, বাজার-দোকান সম্পূর্ণ অচল, চারদিকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের সফর ও শান্তি আলোচনার জল্পনায় প্রশাসন এই কড়াকড়ি জারি করেছে।

Advertisement
১০ দিন ধরে ইসলামাবাদে 'লকডাউন, চরম সঙ্কটে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ ইসলামাবাদে 'লকডাউন'
হাইলাইটস
  • সংঘাত চলছে আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরানের মধ্য়ে
  • অথচ তার ফল ভুগতে হচ্ছে পাকিস্তানের আম আদমিকে

সংঘাত চলছে আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরানের মধ্য়ে। অথচ তার ফল ভুগতে হচ্ছে পাকিস্তানের আম আদমিকে। ইসলামাবাদের এক বাসিন্দা জানালেন,'যুদ্ধ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে। অথচ তার ফল ভুগছি আমি।' তাঁর কথায়, 'ইসলামাবাদের সব রাস্তা বন্ধ, বাজার বন্ধ, মানুষ বেকার হয়ে বসে আছে। মূল্যবৃদ্ধি আর দারিদ্রে জর্জরিত সবাই। অথচ সরকার আমেরিকা-ইজরায়েল এবং ইরানের আলোচনা নিয়ে ব্যস্ত। সে আলোচনা হোক। তাতে আমাদের আপত্তি নেই। তবে আগে দেশের সাধারণ মানুষের কথা ভাবুক।' 

ইরান-সংক্রান্ত সম্ভাব্য আলোচনার জেরে গত ১০ দিন ধরে কার্যত লকডাউনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। শহরের প্রধান রাস্তাগুলি বন্ধ, বাজার-দোকান সম্পূর্ণ অচল, চারদিকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের সফর ও শান্তি আলোচনার জল্পনায় প্রশাসন এই কড়াকড়ি জারি করেছে।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পাকিস্তানের দিনমজুর ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষ। তাদের দিন আনা দিন খাওয়ার সংসার। ইসলামাবাদ কার্যত বন্ধ থাকায় তাদের হাতে কাজ নেই। স্থানীয় বাসিন্দা মোহম্মদ সাবির বলেন, 'কখনও বলা হচ্ছে ট্রাম্প আসবেন, কখনও বলা হচ্ছে ইরানের প্রেসিডেন্ট আসবেন। কিন্তু যতদিন তারা না আসছেন, ততদিন আমরা কোথায় যাব? না কাজ আছে, না রোজগার-আমরা চরম সমস্যায় আছি।' 

সম্ভাব্য এই বৈঠকের জেরে সরকারি ও বেসরকারি কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে। তারা তো বাড়িতে বসে কাজ করছে। কিন্তু দিনমজুরদের জন্য কোনও বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করেনি শেহবাজ শরিফ সরকার। রাস্তায় কেবল সেনা ও পুলিশকর্মীদের উপস্থিতি চোখে পড়ছে। অনেকের কাছেই এই পরিস্থিতি করোনা মহামারির সময়ের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, 'এ তো মনে হচ্ছে করোনাকালের সেই লকডাউন। রাস্তায় বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। কাজে যেতে পারছি না। গাড়ি-ঘো়ড়া বন্ধ। এভাবে কতদিন চলবে? চরম অনিশ্চয়তার কাটছে আমাদের।' 

ইসলামাবাদর পাশের শহর রাওয়ালপিন্ডিতেও প্রায় এক অবস্থা। কাজ না পেয়ে অনেক শ্রমিক ঘরের ভাড়া দিতে পারেনি। তাই তাদের হোস্টেল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। ফলে হাজার হাজার মানুষ হঠাৎ করেই বাসস্থানের সংকটে পড়েছে।

Advertisement

পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এর এক স্বাস্থ্যকর্মী আরিজ আখতার জানান, 'শনিবার ভীষণ বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। আমি ভাগ্যবান যে আমার গ্রাম কাছেই, কিন্তু অনেকেই দূর থেকে এসেছে। তাদের অন্যদের কাছে আশ্রয় চাইতে হয়েছে। এখন মনে হচ্ছে যেন খাঁচার মধ্যে বন্দি হয়ে আছি।' 

তবে এত কাণ্ড ঘটে চললেও ইসলামাবাদে আমেরিকা-ইজরায়েল-ইরান আলোচনাকে ঘিরে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইতিবাচক খবর আসতে পারে। তবে কিছু রিপোর্টে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের পরিকল্পনা বদলেছে এবং ইরানও সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়েছে।

POST A COMMENT
Advertisement