
বৃষ্টি হতেই বেরিয়ে এল হাজার হাজার কাঁকড়াবিছে, কামড়ে মৃত ৩, আহত অন্তত ৫০০কলকাতায় বেশি বৃষ্টি হলে নর্দমা ছাপিয়ে জল উঠে আসে রাস্তায়। সেই জল-যন্ত্রণার ছবির প্রায় সকলেরই চেনা। কিন্তু আসওয়ানের (Aswan) মানুষ বেশি বৃষ্টি হলেই ভয়ে ভয়ে থাকেন। এই বুঝি শুরু হল আক্রমণ। আক্রমণকারী আবার যে সে প্রাণী নয়, সাক্ষাৎ মৃত্যুদূত।
মিশরীয় মাইথোলজিতে স্করপিয়ন কিংয়ের কথা বলা হয়েছে, আসওয়ানের তাগড়াই কাঁকড়াবিছেদের দেখে তেমনটাই মনে হতে পারে। সেখানে একটু বেশি বৃষ্টি হলেই মাটির নীচের বাসস্থান ছেড়ে হাজার হাজার কাঁকড়াবিছে উঠে আসে শহরের রাস্তায়। শুধু তাই নয়, বাড়ি-ঘরে ঢুকে দেদার হুলও ফোঁটায় সেখানকার বাসিন্দাদের। গত শুক্রবার ১২ নভেম্বর মিশরের (Egypt) আসওয়ান শহরে ঘটল এমনটাই। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী কাঁকড়াবিছের কামড়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫০০ জন। তাঁদের মধ্যে ৯০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

মিশরের স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে খবর, এলাকার প্রায় সব হাসপাতালেই বহু মানুষ কাঁকড়াবিছের কামড় খেয়ে চিকিৎসার জন্য আসেন। তবে হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাই জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল করতে হয়েছে। জীবনদায়ী অ্যান্টি-ভেনমও পাঠানো হচ্ছে। নীল নদ এবং নাসের হ্রদে আসা বড় কার্গো এবং যাত্রীবাহী জাহাজগুলিতে পোর্টে আসতে নিষেধ করা হয়েছে।
মিশরের এই ফ্যাট টেইলড স্করপিয়নকে (Fat-Tailed Scorpions) বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর কাঁকড়াবিছে হিসাবে গণ্য করা হয়। এদের বিষ এতটা মারাত্মক যে ৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি চিকিৎসা না হয় তবে যে কোনও মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে। এই মারাত্মক নিউরোটক্সিক বিষ কিছু ক্ষণের মধ্যেই শরীরে তার প্রভাব ফেলে। নিঃশ্বাসে কষ্ট, মাংসপেশী কাজ করা বন্ধ করে দেওয়া এবং হ্যালুসিনেশন এর অন্যতম লক্ষণ।