হরমুজ প্রণালীইরান যুদ্ধ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে কার্যত বন্ধ হরমুজ প্রণালী। মূলত, তেহরানের হুমকির মুখেই এহেন অচলাবস্থা। যার ফলে গোটা বিশ্বে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। যদিও এই অচলাবস্থা কাটাতে উদ্যোগী হয়েছে বিশ্বের প্রথম সারির কিছু দেশ। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস এবং জাপান মিলিতভাবে একটি বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে তারা জানিয়েছে, তারা এই জরুরি সমুদ্রপথ দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে তৈরি।
এই সব দেশ একত্রিতভাবে ইরানের নিন্দাও করেছে। তাদের অভিযোগ, তেহরানের অবিবেচনামূলক হামলার জন্য সারা পৃথিবীতে জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এটা তারা কোনওভাবেই মেনে নেবে না। তাই তারা মিলিতভাবে এই সমস্যা সমাধানে কাজ করবে। এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে যাতে জ্বালানি বোঝাই জাহাজ খুব সহজেই যাতায়াত করতে পারে, সেটা নিশ্চিত করবে তারা। এই কাজের মাধ্যমেই তারা সারা বিশ্বে জ্বালানি সঙ্কট দূর করতে চাইছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, এই মিলিত বিবৃতিতে কাতার এবং সৌদি আরবের তেল-গ্যাস প্ল্যান্টে হামলার জন্য ইরানের কড়া নিন্দা করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দেওয়া হয়েছে হুঁশিয়ারি।
এই প্রসঙ্গে কাতার এনার্জি জানিয়েছে, ইরানের এহেন আক্রমণের জন্য তাদের ১৭ শতাংশ এলএনজি রফতানি ক্ষমতা কমে গিয়েছে। যার ফলে বছরে ২০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি তাদের সইতে হবে।
এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলির পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এল ৬ দেশের জোট। তারা সম্মলিতভাবে কাজ করবে জানান হয়েছে। সেই মতো তৈরি প্ল্যানও।
গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ
একদিকে আমেরিকা, ইজরায়েল। অন্যদিকে ইরান। আর এই যুদ্ধে কার্যত বন্ধ হরমুজ প্রণালী। এই সমুদ্রপথ থেকে এগিয়ে যাওয়া জাহাজের উপর হামলা করছে ইরান। যার ফলে শতাধিক জাহাজ আটকে রয়েছে হরমুজেরিক আছে। এমন পরিস্থিতিতে বিপদে পড়েছে একাধিক দেশ। তৈরি হয়েছে জ্বালানি সঙ্কট। তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। গ্যাসের জন্য শুরু হয়েছে হাহাকার।
সমস্যা মেটানোর দেওয়া হয়েছে পরামর্শ
শুধু হরমুজ প্রণালীতে আক্রমণই হচ্ছে না। পাশাপাশি ইরানের পক্ষ থেকে কাতার এবং সৌদির একাধিক গ্যাস-তেলের খনিতে করা হয়েছে হামলা। যার ফলে বিপদ আরও বাড়ছে।
এমন পরিস্থিতিতে শান্তি বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে এই সব দেশ। তারা দাবি করেছে, 'এখন থেকে এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে জ্বালানির বাজারে স্থিতাবস্থা থাকে।'