Afghanistan Pakistan Conflict: আফগানদের মারে কোণঠাসা পাকিস্তান, ৫ দিনে ১৫০ সেনার মৃত্যু: রিপোর্ট

Afghanistan Pakistan Conflict: ডুরান্ড লাইনের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল থেকে জটিলতর। কার্যত বড় আকারের সশস্ত্র যুদ্ধে পরিণত হয়েছে আফগানিস্থান-পাকিস্তান সংঘাত। আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক মুখপাত্রের দাবি, গত পাঁচ দিনে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

Advertisement
আফগানদের মারে কোণঠাসা পাকিস্তান, ৫ দিনে ১৫০ সেনার মৃত্যু: রিপোর্টআফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক মুখপাত্রের দাবি, গত পাঁচ দিনে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
হাইলাইটস
  • ডুরান্ড লাইনে কোণঠাসা পাকিস্তান।
  • কার্যত বড় আকারের সশস্ত্র যুদ্ধে পরিণত হয়েছে আফগানিস্থান-পাকিস্তান সংঘাত।
  • দাবি, গত পাঁচ দিনে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

Afghanistan Pakistan Conflict: ডুরান্ড লাইনে কোণঠাসা পাকিস্তান। কার্যত বড় আকারের সশস্ত্র যুদ্ধে পরিণত হয়েছে আফগানিস্থান-পাকিস্তান সংঘাত। আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক মুখপাত্রের দাবি, গত পাঁচ দিনে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাঁদের কথায়, অন্তত ১৫০ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং প্রায় ২০০ জন গুরুতর জখম হয়েছেন। পাশাপাশি সীমান্তের ৪০টি পোস্ট দখল ও ধ্বংসের দাবিও করা হচ্ছে। আফগান সীমান্ত বাহিনীর মুখপাত্র আবিদুল্লাহ উকাব এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সূত্র উদ্ধৃত করেই এই দাবি করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, তালিবানপন্থী আফগান প্রতিরক্ষা বাহিনী পাকিস্তানের যে কোনও সামরিক পদক্ষেপের জবাব দিতে প্রস্তুত। সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেড়েছে যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা।

অন্য দিকে, পাকিস্তানের তরফে এখনও পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট সংখ্যার দাবি স্বীকার করা হয়নি। উল্টে ইসলামাবাদের দাবি, তাদের পাল্টা অভিযানে আফগান তালিবানপন্থী শতাধিক যোদ্ধা নিহত হয়েছে এবং একাধিক ঘাঁটি পুনর্দখল করা হয়েছে। ফলে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের বয়ান সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে।

আফগান বাহিনীর আরও দাবি, পাকিস্তানের পাঠানো একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। সীমান্তে নজরদারির উদ্দেশ্যে পাঠানো ‘স্মল ইন্টেলিজেন্স ড্রোন’ও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই দাবি যদি সত্য হয়, তা হলে সীমান্ত সংঘাত কেবল স্থলেই সীমাবদ্ধ নেই—আকাশপথেও উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে একাধিক ভিডিও। আফগান তালিবানপন্থী যোদ্ধাদের দাবি, তারা পাকিস্তানি পোস্ট দখল করে অস্ত্র, ওয়্যারলেস সেট ও সামরিক সরঞ্জাম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। ভিডিওগুলিতে কয়েকজন পাক সেনাকে পিছু হটতে দেখা যাচ্ছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। যদিও এই সমস্ত ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

আন্তর্জাতিক স্তরে উদ্বেগ বাড়ছে। রাষ্ট্রপুঞ্জ-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংগঠন দুই পক্ষকেই সংযম প্রদর্শন ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। বহু পরিবার ঘরছাড়া হয়েছে বলে খবর।

Advertisement

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডুরান্ড লাইনের পুরনো সীমান্ত-সঙ্কট নতুন মাত্রা পেয়েছে। তালিবান শাসিত আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সম্পর্ক বিগত কয়েক বছরে ওঠানামার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। বর্তমান সংঘাত সেই অস্থিরতাকেই প্রকট করে তুলেছে। যদি দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না মেলে, তা হলে গোটা দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের স্থিতিশীলতায় প্রভাব পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে যুদ্ধ পরিস্থিতি কার্যত অনিশ্চয়তার নতুন অধ্যায় রচনা করছে। দুই দেশের পরস্পরবিরোধী দাবি, ড্রোন হামলার অভিযোগ এবং দখলদারির ভিডিও; সব মিলিয়ে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সে দিকেই নজর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের।

POST A COMMENT
Advertisement