Afghanistan Legalized Slaves: আফগানিস্তানে 'দাস' রাখাকে আইনি স্বীকৃতি, অত্যাচার করলেও শাস্তি হবে না তালিবানদের

আফগানিস্তান আবারও বিশ্ববাসীর সামনে চরম লজ্জার উদাহরণ তৈরি করল। তালিবান শাসনের অধীনে দেশটি এমন এক আইনি পথে হাঁটছে, যা মানবসভ্যতার বহু আগেই পরিত্যক্ত, দাসপ্রথার ছায়াকে ফের আইনের মোড়কে বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement
আফগানিস্তানে 'দাস' রাখাকে আইনি স্বীকৃতি, অত্যাচার করলেও শাস্তি হবে না তালিবানদের
হাইলাইটস
  • আফগানিস্তান আবারও বিশ্ববাসীর সামনে চরম লজ্জার উদাহরণ তৈরি করল।
  • তালিবান শাসনের অধীনে দেশটি এমন এক আইনি পথে হাঁটছে, যা মানবসভ্যতার বহু আগেই পরিত্যক্ত, দাসপ্রথার ছায়াকে ফের আইনের মোড়কে বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আফগানিস্তান আবারও বিশ্ববাসীর সামনে চরম লজ্জার উদাহরণ তৈরি করল। তালিবান শাসনের অধীনে দেশটি এমন এক আইনি পথে হাঁটছে, যা মানবসভ্যতার বহু আগেই পরিত্যক্ত, দাসপ্রথার ছায়াকে ফের আইনের মোড়কে বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি তালিবান প্রশাসন একটি নতুন ফৌজদারি কার্যবিধি চালু করেছে, যা ঘিরে দেশজুড়ে এবং আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা এই আইনি নথিতে অনুমোদন দেন এবং আদালতগুলিকে তা কার্যকর করার নির্দেশ দেন। অভিযোগ, এই আইনে পরোক্ষভাবে দাসপ্রথাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। নথিতে একাধিকবার ‘গুলাম’ (দাস) এবং ‘মাস্টার’ শব্দের ব্যবহার মানবাধিকার সংগঠনগুলির গভীর উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলির দাবি, এই আইন আফগান সমাজকে চারটি অসম শ্রেণীতে ভাগ করেছে, যার মধ্যে দাসদেরও একটি পৃথক আইনি অবস্থান দেওয়া হয়েছে। আরও গুরুতর অভিযোগ হল, এই আইনে মোল্লা বা ধর্মীয় নেতাদের কার্যত আইনের ঊর্ধ্বে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনও মোল্লা যদি অপরাধও করেন, তবুও তাঁদের বিরুদ্ধে বিচার বা শাস্তির কোনও বিধান রাখা হয়নি।

তালেবানের নতুন আইনের ৯ নম্বর ধারায় সমাজকে চারটি স্তরে ভাগ করার কথা বলা হয়েছে। শীর্ষে রয়েছেন মোল্লা ও ধর্মগুরুরা, যাঁদের জন্য শাস্তির বদলে কেবল ‘উপদেশ’-এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিপরীতে, সমাজের সর্বনিম্ন স্তরের মানুষদের জন্য রয়েছে কারাদণ্ড ও শারীরিক শাস্তির মতো কঠোর বিধান। একই অপরাধ হলেও শাস্তি নির্ভর করবে অপরাধীর সামাজিক শ্রেণীর ওপর, এমনটাই জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ‘রাওয়াদারি’।

রাওয়াদারি আরও বলেছে, এই আইন আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদে যেকোনও ধরনের দাসত্বকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তালিবান আইন সমাজকে ‘মুক্ত’ ও ‘দাস’-এই দুই ভাগে কার্যত বিভক্ত করে ফেলছে। উলামা, আশরাফ, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত, এই চার শ্রেণীবিভাগ মানব মর্যাদা ও সমতার ধারণাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

তালিবান বিরোধী রাজনৈতিক জোট ‘সুপ্রিম কাউন্সিল অফ ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফর দ্য স্যালভেশন অফ আফগানিস্তান’ এই আইনকে “মধ্যযুগের চেয়েও ভয়াবহ” বলে আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটির মতে, এই বিধান সমতা, মানবিক মর্যাদা এবং দাসত্ব-বিরোধী আন্তর্জাতিক নীতির সরাসরি লঙ্ঘন।

Advertisement

প্রাক্তন আফগান অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ফরিদ হামিদি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, এই নথি গোটা জাতিকেই অপমান করে। তাঁর কথায়, এটি মানবিক মর্যাদার উপর সরাসরি আঘাত এবং মানবিক মূল্যবোধের চরম অবমাননা।

নারীদের অধিকার হরণ দিয়ে যে শাসন শুরু হয়েছিল, এখন সেই তালিবান শাসন দাসপ্রথার মতো বর্বর ধারণাকে ফের আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে, এমনটাই আশঙ্কা মানবাধিকার কর্মীদের। আফগানিস্তান যে ক্রমশ আরও অন্ধকার এক যুগের দিকে এগোচ্ছে, তা নিয়ে বিশ্ববাসীর উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

 

POST A COMMENT
Advertisement