South Africa Tariff on India: USA-এর পর এবার ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পথে দক্ষিণ আফ্রিকা

এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা ভারত ও চিন থেকে আমদানি হওয়া যানবাহনের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর কথা বিবেচনা করছে। ব্লুমবার্গের খবর অনুযায়ী, সে দেশের বাণিজ্য, শিল্প ও প্রতিযোগিতা দফতর ইতিমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

Advertisement
USA-এর পর এবার ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পথে দক্ষিণ আফ্রিকাফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা ভারত ও চিন থেকে আমদানি হওয়া যানবাহনের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর কথা বিবেচনা করছে।
  • ব্লুমবার্গের খবর অনুযায়ী, সে দেশের বাণিজ্য, শিল্প ও প্রতিযোগিতা দফতর ইতিমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা ভারত ও চিন থেকে আমদানি হওয়া যানবাহনের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর কথা বিবেচনা করছে। ব্লুমবার্গের খবর অনুযায়ী, সে দেশের বাণিজ্য, শিল্প ও প্রতিযোগিতা দফতর ইতিমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

কেন এই সিদ্ধান্তের কথা ভাবছে দক্ষিণ আফ্রিকা?
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রশাসনের মতে, ভারত ও চিন থেকে ক্রমাগত বাড়তে থাকা যানবাহন আমদানির ফলে সে দেশের স্থানীয় অটোমোবাইল সংস্থাগুলি চাপের মুখে পড়ছে। বিশেষ করে কম দামের গাড়ির কারণে দেশীয় নির্মাতাদের বাজার ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে। সেই কারণেই আমদানির লাগাম টানতে এই উচ্চ শুল্ক আরোপের বিষয়টি ভাবনাচিন্তার মধ্যে রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো সংশোধনের দিকেও নজর দিচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন’ নীতির আওতায় কী ভাবে শুল্ক বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আইনি দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু গাড়ি নয়, যানবাহনের যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত শুল্ক বসতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

ভারত ও চিনই সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় যানবাহন আমদানির ক্ষেত্রে ভারত ও চিনই এখন সবচেয়ে বড় দুই উৎস। ২০২৪ সালে মোট আমদানির মধ্যে ভারতের অংশ ছিল প্রায় ৫৩ শতাংশ, আর চীনের ছিল ২২ শতাংশ। এই বিপুল বাজার দখলই দক্ষিণ আফ্রিকার শিল্প মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

চিন ও ভারত থেকে আমদানির গতি কতটা বেড়েছে?
গত চার বছরে চিন থেকে যানবাহন আমদানি বেড়েছে প্রায় ৩৬৮ শতাংশ। একই সময়ে ভারত থেকে আমদানি বেড়েছে ১৩৫ শতাংশ। বিশেষ করে এন্ট্রি-লেভেল বা স্বল্পমূল্যের গাড়ির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা সবচেয়ে বেশি, যা স্থানীয় সংস্থাগুলির মুনাফায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

ইইউ চুক্তির মাঝেই নতুন চাপ
এই সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের আলোচনা এমন সময়ে সামনে এল, যখন ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী, প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্যের উপর শুল্ক কমানো বা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর ফলে ইউরোপে ভারতীয় পণ্যের রপ্তানি ও চাহিদা বাড়বে বলেই আশা।

Advertisement

অন্য দিকে, আমেরিকা ইতিমধ্যেই ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যা ভারত থেকে আমেরিকায় রপ্তানি হওয়া পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তবুও, চলতি অর্থবর্ষের ডিসেম্বর প্রান্তিকে আমেরিকায় ভারতের রপ্তানি বেড়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ আফ্রিকার সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত ভারতীয় অটোমোবাইল শিল্পের জন্য নতুন করে চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

POST A COMMENT
Advertisement