ভারত-আমেরিকা ট্রেড ডিলমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর সহযোগীরা ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তিকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে এর সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়েস গিয়েছে। ব্লুমবার্গ-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোদী সরকার ওয়াশিংটন ডিসি-কে জানিয়েছিল, ভারত চাইলে ট্রাম্পের পুরো প্রেসিডেন্সিয়াল মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত এই বাণিজ্য চুক্তির জন্য অপেক্ষা করতে প্রস্তুত।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে ভারতীয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল ও মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর মধ্যে একটি বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেই ভারত সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়। এই বৈঠকটি হয় এমন একটি সময়ে যখন ট্রাম্প প্রশাসন একের পর এক আক্রমণ চালাচ্ছিল মোদী সরকারের বিরুদ্ধে। ভারতীয় রফতানির উপরও ৫০% পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল। যা বিশ্বের সর্বোচ্চ শুল্কহারগুলির মধ্যে অন্যতম।
এই রিপোর্টের গুরুত্ব আরও বেড়েছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণার পর। তিনি আগেভাগেই ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তাঁর সহযোগীরাও এটিকে মার্কিন কৃষিক্ষেত্রের জন্য বড় জয় বলে প্রচার করতে শুরু করেন। অথচ কৃষি ও দুগ্ধ এই দুই খাতেই ভারত স্পষ্ট রেখা টেনে রেখেছিল।
ব্লুমবার্গ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অজিত ডোভাল মার্কো রুবিওকে জানিয়েছিলেন, ভারতকে প্রেসিডেন্ট ডোমাল্ড ট্রাম্প বা তাঁর শীর্ষ সহযোগীরা ধমক দিয়ে কিছু করাতে পারবে না। অতীতেও একাধিক শত্রুভাবাপন্ন মার্কিন প্রশাসনের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা থাকায় ভারত তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্তও অপেক্ষা করতে প্রস্তুত।
এই রিপোর্টটি তৈরি হয়েছিল দিল্লির এমন কিছু সরকারি আধিকারিকদের তথ্যের ভিত্তিতে, যাঁরা ওই বৈঠকের বিষয়ে অবগত ছিলেন। বৈঠকটি ব্যক্তিগত পরিসরে হওয়ায় তাঁর নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক। এই বিষয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এবং মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট, দু'পক্ষই মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বৈঠকে অজিত ডোভাল মার্কো রুবিওকে আরও বলেন, 'সম্পর্ক স্বাভাবিক পথে ফেরাতে হলে ট্রাম্প ও তাঁর সহযোগীদের উচিত ভারতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনার সুর কিছুটা নরম করা।'
এই বৈঠকের পর সত্যিই ট্রাম্প ও তাঁর দলের বক্তব্যে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যায়। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ট্রাম্প ফোন করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছাও জানান।
এর আগে অবশ্য ট্রাম্প ও তাঁর ‘আক্রমণাত্মক’ সহযোগীরা, বিশেষ করে পিটার নাভারো ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে বড় ভূমিকা নেন। নাভারো অভিযোগ করেন,ভারত স্বৈরশাসকদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে। রাশিয়া থেকে তেল কেনাকে কেন্দ্র করে রুশ-ইউক্রেনের মাঝের যুদ্ধকে 'মোদীর যুদ্ধ' বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। ভারতের সংস্কৃতিকেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি। মোদীর গেরুয়া পোশাকে ধ্যানরত এবং কপালে বিভূতি আঁকা ছবি পোস্ট করেও কটাক্ষ করেন।
উল্লেখ্য, গত বছর মে মাসের সংঘর্ষবিরতি নিয়ে যেমন ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে চলেছিলেন। তেমনই রবিবারও কূটনৈতিক প্রোটোকল এড়িয়ে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কথাও ঘোষণা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মোদী ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথনের কথা স্বীকার করলেও তাঁর পোস্টে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কোনও উল্লেখ ছিল না। স্পষ্টতই, ট্রাম্প একতরফা এই ঘোষণা করে মোদী সরকারকে দেশের ভিতরেও প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের মেয়াদ চার বছর এবং একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ প্রেসিডেন্ট থাকতে পারেন। ট্রাম্প ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হন। সেই হিসেবে ভারত চাইলে ২০২৯ সাল পর্যন্ত এই চুক্তির জন্য অপেক্ষা করতে পারত।