সিন্ধুর জল নিয়ে ভারত কী বলছে?সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল পাকিস্তান। যদিও তার একদিনের মধ্যেই ইসলামাবাদকে পাল্টা দিল নয়াদিল্লি। তারা জানিয়ে দিল, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদে মদত বন্ধ না করা পর্যন্ত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতই থাকবে। অর্থাৎ পাকিস্তানের হুমকিতে যে কোনও কাজ হবে না, সেটাই বুঝিয়ে দিল ভারত সরকার।
আসলে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন এই চুক্তি অনুযায়ী, পাকিস্তানের প্রাপ্য জলে কেউ হাত দিলে ইসলামাবাদ 'সেই হাত কেটে দেবে'।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আতা উল্লাহ তারারও এমনই দাবি করেন। তিনি জানান, ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তি। এই চুক্তি এখনও আইনত বৈধ। এটিকে একতরফাভাবে স্থগিত বা সংশোধন করা যায় না।
যদিও ইসলামাবাদের এই সব ডায়লগ শুনে চুপ করে বসে থাকনি ভারত সরকার। বরং তারা পাল্টা দিল। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক প্রতিক্রিয়া দিয়ে বুঝিয়ে দিল সন্ত্রাসবাদে মদত বন্ধ না হলে সিন্ধু চুক্তি স্থগিতই থাকবে।
কী বলল ভারতের বিদেশমন্ত্রক?
শুক্রবার সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিষয়টা সম্পর্কে মুখ খোলেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেন, 'সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ভারতের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি। পাকিস্তানের সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার কারণেই চুক্তিটি স্থগিত রাখা হয়েছে। আমরা পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।'
এর পাশাপাশি আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলার নিন্দাও করা হয় বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে। ওই হামলায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারত আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সমর্থন করে। পাশাপাশি মানবিক সহায়তা ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অটুট রয়েছে।
কেন সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করেছে ভারত?
আসলে পহেলগাঁওয়ে ভয়ঙ্কর জঙ্গিহানা চালায় পাকিস্তান। এর পাল্টা হিসেবে অপারেশন সিঁদুর শুরু করে ভারত। সেই হামলায় উড়িয়ে দেওয়া হয় পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি। এর পাশাপাশি ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নয়াদিল্লি দাবি করে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা একসঙ্গে চলতে পারে না। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, 'রক্ত আর জল একসঙ্গে বইতে পারে না।'
ভারতের আরও দাবি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই চুক্তি ভারসাম্যহীন হয়ে উঠেছে। কারণ, এই চুক্তিতে সিন্ধু নদী পশ্চিমের নদীগুলির উপর পাকিস্তানকে অনেক অধিকার দেওয়া হয়েছে। অথচ বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের জলের চাহিদা ঠিকঠাক দেখা হয়নি।