বালুচিস্তানে হামলাআবার খবরের শিরোনামে বালুচিস্তান। পাকিস্তানের এই প্রদেশের ১২টি জায়গায় একযোগে হামলা চালিয়েছে বালুচ বিদ্রোহীরা বলে জানা যাচ্ছে। আর শুক্রবার রাত থেকে চলা এই হামলায় অন্তত ৭০ বালুচ জঙ্গি এবং ১০ জন নিরাপত্তারক্ষী নিহত হয়েছে বলেই প্রাথমিকভাবে খবর মিলেছে।
কী হয়েছিল?
শুক্রবার রাত থেকে শুরু হয় হামলা। বালুচ জঙ্গিদের একাংশ নিরপত্তারক্ষী থেকে শুরু করে পুলিশের ঘাঁটি এবং সাধারণ মানুষের উপর আক্রমণ শুরু করে। এরপরই সেনা এবং অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের জোরদার লড়াই শুরু হয়ে যায়। আর তাতেই ৭০ বালুচ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে খবর। পাশাপাশি ১০ জন নিরাপত্তারক্ষীও প্রাণ হারিয়েছে।
এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন বালুচ প্রদেশের সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ। তিনি জানান, কোয়েটা, গাদর, মাকরান, হাব, চমন, নাসিরাবাদ এবং নুশকি সহ একাধিক এলাকা থেকে হামলার খবর এসেছে।
এই হামলা নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বালুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতিও। তিনি জানিয়েছেন, সেনা এবং পুলিশের অভিযান চলেছে। এখনও পর্যন্ত ৭০ জন জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে। এখনও চলছে অভিযান। শুধু তাই নয়, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এই প্রসঙ্গে বলেন, 'জঙ্গিরা পুলিশ পোস্ট ও ফ্রন্টিয়ার কর্পসের ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।' তবে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক ছিল। তাই হামলাগুলি ব্যর্থ হয়। হামলাকারীরা পিছু হটে যায়। তিনি আরও জানান যে, নাসিরাবাদ জেলায় একটি রেললাইনে পোঁতা বিস্ফোরক পরে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছে।
মহসিন নকভি কী বললেন?
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভিও এই আক্রমণ সম্পর্কে কথা বলেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে সেনা এবং জঙ্গিদের সংঘর্ষে পুলিশ ও ফ্রন্টিয়ার কর্পসের ১০ জন নিহত হয়েছেন।
‘অপারেশন হেরোফ ফেজ টু’
এই হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (BLA)। শনিবার তাঁরা দাবি করেছে ‘অপারেশন হেরোফ’-এর দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করেছে গোটা বালুচিস্তানে।
সংগঠনের মুখপাত্র জিইয়ান্দ বেলুচ-এর নামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, তাদের যোদ্ধারা নুশকিতে কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (CTD)-এর সদর দফতরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। পাশাপাশি একটি ফ্রন্টিয়ার কর্পসের ঘাঁটি দখল করেছে। শুধু তাই নয়, এই বিবৃতিতে পাকিস্তানি সেনাদের নিহত হওয়ার দাবিও করা হয়েছে। তবে পাকিস্তানের সরকার এই সব দাবি মানতে নারাজ। বরং তাদের পক্ষ থেকে জঙ্গিদের মারার খবরই সামনে এসেছে।
সরকার জানিয়েছে, নিহত জঙ্গিদের শনাক্ত করার কাজ করছে। বোঝার চেষ্টা চলছে যে এরা বালুচ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্য ছিল নাকি নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর সদস্যরাও এর সঙ্গে জড়িত। যদিও এই ঘটনা থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে ঘর সামলাতে ব্যর্থ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।