কিম জং ইরান যুদ্ধে যোগ দিলে কী হবে?দশম দিনে পড়ল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। এখনও পিছু হঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে না কোনও পক্ষই। একদিকে যেমন ইজরায়েল ও আমেরিকা টানা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরানের উপর। তেমনই তেহরানও পরপর মিসাইল ও ড্রোন হামলায় ইজরায়েলকে নাস্তানাবুদ করে তুলেছে। এমন প্রেক্ষিতে আলোচনার শিরোনামে উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন। তাঁকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন মিম-এর বন্যা। কিন্তু এরইমধ্য়ে অনেকের মনে প্রশ্ন, যদি সত্যিই উত্তর কোরিয়া যুদ্ধের ময়দানে নামে তাহলে কী হবে?
উত্তর কোরিয়া কোন পক্ষে?
উত্তর কোরিয়া চিন, রাশিয়ার সঙ্গে মিত্রভাবাপন্ন সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। ইরানের সঙ্গেও কোনও খারাপ সম্পর্ক পিয়ংইয়ং-এর নেই। বরং আমেরিকার বিরুদ্ধে বারেবারেই প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন।
সম্প্রতি, ইরান যুদ্ধ নিয়েও বার্তা দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। ইরানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক হামলাকে অবৈধ আগ্রাসন হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে সে দেশের বিদেশ মন্ত্রক। কিমের দেশের তরফে বলা হয়েছে, আমেরিকা ও ইজরায়েলি হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে এবং এটি বিশ্বে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।
উত্তর কোরিয়া যুদ্ধে এন্ট্রি নিলে কী হবে?
প্রকাশ্যে আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরোধিতার পর কোনও সন্দেহ থাকে না যে, উত্তর কোরিয়া যুদ্ধে নামলে তারা ইরানের পক্ষেই নামবে। সেক্ষেত্রে রাশিয়া ও চিনকেও পাশে পেতে পারে ইরান। অন্যদিকে, আমেরিকা ইউরোপীয় দেশগুলির সমর্থন পেলে এই যুদ্ধ মারাত্মক আকার ধারণ করে বিশ্বযুদ্ধে পরিণত হতে পারে।
পাশাপাশি, মনে রাখতে হবে ইরান যুদ্ধ লড়ছে তাদের ব্যালেস্টিক মিসাইল ও ড্রোনের ভরসায়। তেহরানের হাতে কোনও পরমাণু অস্ত্র নেই। কিন্তু উত্তর কোরিয়া পরমাণু শক্তির বলে বলীয়ান। ফলে বিশ্বজুড়ে বড় অঘটন ঘটাও বিচিত্র নয়।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ দাবি করছে, ইরান যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার এন্ট্রি হলে তা ভূ-রাজনৈতিক স্তরে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্বে বড়সড় জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
এই মুহূর্তে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান কেমন?
এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া সরাসরি কোনও যুদ্ধের ঘোষণা করেনি। তবে কিম জং উনের হুঁশিয়ারি বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাতে উত্তর কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতের অঘটনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মত আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের।