China oil import crisis: মার্কিন-ইরান যুদ্ধে চাপে চিন... তেল আমদানিতে ব্যাপক ক্ষতি বেজিংয়ের

China oil import crisis: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে বড় ধাক্কা খেল চিন। সঙ্কটে জ্বালানি আমদানি। আমেরিকা-ইরান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার কারণে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। চিনের সরকারি তথ্য বলছে, গত এক বছরে তাদের তেল আমদানি প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে।

Advertisement
মার্কিন-ইরান যুদ্ধে চাপে চিন... তেল আমদানিতে ব্যাপক ক্ষতি বেজিংয়েরআন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মতে, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিনের অর্থনীতি এবং শিল্প উৎপাদনের উপরও তার বড় প্রভাব পড়তে পারে।
হাইলাইটস
  • মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে বড় ধাক্কা খেল চিন।
  • অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বড়সড় প্রভাব পড়েছে।
  • গত এক বছরে চিনের তেল আমদানি প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে।

China oil import crisis: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে বড় ধাক্কা খেল চিন। সঙ্কটে জ্বালানি আমদানি। আমেরিকা-ইরান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার কারণে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। চিনের সরকারি তথ্য বলছে, গত এক বছরে তাদের তেল আমদানি প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে গ্যাস আমদানিও কমেছে প্রায় ১৩ শতাংশ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি আমদানিকারী দেশের সামনে তাই এখন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মতে, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিনের অর্থনীতি এবং শিল্প উৎপাদনের উপরও তার বড় প্রভাব পড়তে পারে।

শনিবার প্রকাশিত চিনের কাস্টমস বা শুল্ক দফতরের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির কাঁচা তেল আমদানি কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮.৪৭ মিলিয়ন টনে। ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর যা সর্বনিম্ন। একই সময়ে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিও নেমে এসেছে ৮.৪২ মিলিয়ন টনে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে সমস্যা তৈরি হওয়াতেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্য থেকেই চিন তার মোট তেল আমদানির প্রায় অর্ধেক এবং গ্যাসের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সংগ্রহ করে।

বিশেষজ্ঞ সংস্থা কেপলারের জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে চিনের তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বা LNG কেনা গত আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় চিন এখন বিকল্প পথ খুঁজছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটির সরকার অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখার উপর জোর দিচ্ছে।

ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, ডিজেল এবং পেট্রলের মতো পরিশোধিত তেলজাত পণ্য এখন দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতেই বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে রফতানি কমিয়ে দিয়েছে বেজিং। এপ্রিল মাসে চিনের তেলজাত পণ্যের রফতানি প্রায় ৩৮ শতাংশ কমে ৩১ লক্ষ টনে নেমে এসেছে। গত প্রায় এক দশকের মধ্যে যা অন্যতম কম বলে জানা গিয়েছে।

এদিকে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা তৈরি হওয়ায় বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে চিন। বিশেষ করে কয়লার চাহিদা বাড়ছে। যদিও কয়লা আমদানিও কমেছে প্রায় ১৩ শতাংশ। বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ৩৩.০৮ মিলিয়ন টনে। গত বছরের জুন মাসের পর যা সবচেয়ে কম। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে অন্য কারণও রয়েছে। চিন এখন আমদানির বদলে নিজেদের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের উপর বেশি জোর দিচ্ছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আমেরিকা-ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়তে পারে এশিয়ার অর্থনীতিগুলি। কারণ জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যের উপর নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহণ হয়। সেই পথ দীর্ঘ সময় অচল থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে। তার সরাসরি প্রভাব পড়বে চিন-সহ একাধিক দেশের অর্থনীতিতে।

তবে এই সঙ্কটের মধ্যেও ধাতু রফতানিতে কিছুটা সুবিধা পেয়েছে চিন। অ্যালুমিনিয়াম, তামা-সহ বিভিন্ন ধাতুর রফতানি বাড়িয়েছে তারা। কারণ বর্তমানে বিশ্ববাজারে এই খাতে অন্যতম বড় রফতানিকারক দেশ হয়ে উঠেছে চিন। তবে জ্বালানি সঙ্কট যে আগামিদিনে বেজিংয়ের দুশ্চিন্তা বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।

POST A COMMENT
Advertisement