চিন সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও গুণগত মান এবং বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতায় এখনও এগিয়ে United States।China navy vs US navy: হরমুজ প্রণালীতে পাল্টা চাপ দিচ্ছে আমেরিকা। ইরানকে 'শায়েস্তা' করতে নৌ অবরোধ শুরু করেছে মার্কিন সেনা। বাড়ছে উত্তেজনা। গোটা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চিন। কারণ ইরানের প্রায় ৮০ শতাংশ তেল কেনে চিন। ফলে ইরানের বন্দরে চিনের জাহাজ যাতায়াত করতে পারছে না। এমতাবস্থায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে রীতিমতো বিরোধের পর্যায়ে বেজিং। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এই টানাপোড়েনে কার পাল্লা ভারী; আমেরিকা না চিন?
চিন: ৮৪১টি যুদ্ধজাহাজ
সংখ্যার বিচারে চিনের নৌবাহিনী এখন বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড়। অর্থাৎ, শুধু সংখ্যার নিরিখে ভাবলে কিন্তু চিন অনেক এগিয়ে। People's Liberation Army Navy-র কাছে মোট ৮৪১টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। সাবমেরিন, ডেস্ট্রয়ার, ফ্রিগেট কী নেই! তিনটি এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার এবং একাধিক হেলিকপ্টার ক্যারিয়ারও রয়েছে তাদের হাতে। নৌসেনার সদস্য সংখ্যা ২.৫ লক্ষের বেশি। বিশেষ করে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিন অত্যন্ত প্রভাবশালী।
আমেরিকা: কোয়ালিটি ওভার কোয়ান্টিটি
তবে সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও গুণগত মান এবং বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতায় এখনও এগিয়ে United States। মার্কিন নৌবাহিনীতে যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা কম। কিন্তু প্রযুক্তি, শক্তি এবং অভিজ্ঞতায় তারা অনেকটাই এগিয়ে। তাদের কাছে ১১টি সুপার এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার রয়েছে। এত বেশি সংখ্যায় এয়ারক্রাফট কেরিয়ার বিশ্বের অন্য কোনও দেশের নেই। এছাড়াও রয়েছে ৬৬টি সাবমেরিন। এর মধ্যে বেশিরভাগই পারমাণবিক শক্তিচালিত। ফলে মুহূর্তের নোটিসে বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে যুদ্ধ পরিস্থিতির মোকাবিলায় সক্ষম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
২০২৬-এর ফেব্রুয়ারি থেকেই ইরানকে ঘিরে সংঘাত চলছিল। সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে আলোচনায় বসে আমেরিকা-ইরান। লাভ হয়নি। শান্তি আলোচনা ভেস্তে যায়। এরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) হরমুজে ইরানের জাহাজ চলাচলে বাধা দিতে নৌ অবরোধের সিদ্ধান্ত নেন। আমেরিকার দাবি, ইরান সমুদ্রে মাইন পেতে তেলের পথ বন্ধ করতে চাইছে। তাই সেই মাইন সরিয়ে নিরাপদ পথ তৈরি করছে মার্কিন নৌবাহিনী।
এহেন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে চাপে পড়েছে চিন। কারণ ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে তারা। বেজিং এই ব্লকেডকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির বিরুদ্ধাচরণ বলে দাবি করছে। তবে সরাসরি যুদ্ধের পথে হাঁটতে চাইছে না। বরং কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর পথেই হাঁটছে চিন।
এদিকে হরমুজে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি যথেষ্ট শক্তিশালী। পারস্য উপসাগর এলাকায় একাধিক যুদ্ধজাহাজ, ডেস্ট্রয়ার এবং ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন রয়েছে। অন্যদিকে চিনের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। জিবুতির ঘাঁটি থেকে সীমিত সংখ্যক জাহাজ পাঠানো হলেও এখনও সেখানে মোতায়েন করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আপাতত আমেরিকা ও চিনের সরাসরি সংঘর্ষের সম্ভাবনা কম। আমেরিকার লক্ষ্য মূলত ইরানকে ঘিরে। চিনও জানে, সরাসরি যুদ্ধ হলে তাদের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগবে। তবে যদি চিনা তেলবাহী জাহাজ আটকে দেওয়া হয়, তা হলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
সমুদ্রে সংখ্যার নিরিখে চিন শক্তিশালী হলেও বিশ্বব্যাপী আধিপত্যের দিক থেকে এখনও এগিয়ে আমেরিকা। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট হরমুজ প্রণালীর এই টানাপোড়েনে যে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতেই প্রভাব পড়বে, তা বলাই বাহুল্য