Maldives-India-China: ভারতের প্রজেক্টে চিনকে এন্ট্রি, কী 'গেম' খেলছে মালদ্বীপ? ফের মুইজ্জুর বেজিং প্রেম

২০২৩ সালে মুইজ্জু ক্ষমতায় আসার পরেই 'ইন্ডিয়া আউট' ক্যাম্পেন শুরু করেছিলেন। চিনের সঙ্গে সখ্য বাড়িয়ে নেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতোই ক্ষমতায় এসেই প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মুইজ্জু বেছে নেন চিন। কিন্তু দেশের অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি দেখে দু পা এগিয়েও পিছিয়ে আসতে বাধ্য হন তিনি।

Advertisement
ভারতের প্রজেক্টে চিনকে এন্ট্রি, কী 'গেম' খেলছে মালদ্বীপ? ফের মুইজ্জুর বেজিং প্রেম প্রধানমন্ত্রী মোদী ও মহম্মদ মুইজ্জু, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
হাইলাইটস
  • মুইজ্জু দু'নৌকায় পা দিয়ে চলছেন
  • ভারতের প্রকল্পে চিনা এন্ট্রি
  • একদা 'ইন্ডিয়া আউট' ক্যাম্পেন চালিয়েছিলেন মুইজ্জু

মালদ্বীপ দু'নৌকায় পা দিয়ে চলছে! ভারতকে কাছে রাখছে। আবার চিনকেও। একসময়ের তীব্র ভারত বিরোধী মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জু এই সে দিনই থিলামালে ব্রিজ প্রকল্পকে দিল্লি ও মালের মধ্যে  'দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন' আখ্যা দিলেন।  এই ব্রিজে মূলত বিনিয়োগ করছে ভারতই। মালদ্বীপের পরিকাঠামোতে বড় বিনিয়োগ। আবার চলতি বছরের শুরুর দিকে মালদ্বীপের সরকারি বন্দর সংস্থা মালদ্বীপ পোর্ট লিমিটেড ঘোষণা করেছে, থিলাফুশি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চিন হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে। 

মুইজ্জু দু'নৌকায় পা দিয়ে চলছেন

মালদ্বীপের এই অবস্থানকে কেন দু'নৌকায় পা বলা যেতে পারে? এর জন্য পিছিয়ে যেতে হবে ২০২৩ সালে। দেশের প্রেসিডেন্ট হয়েই মুইজ্জু 'ইন্ডিয়া আউট' নীতি নিয়েছিলেন। চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান। ভারত থেকে প্রচুর মানুষ মালদ্বীপ বেড়াতে যান। মালদ্বীপের পর্যটন শিল্পে ভারতের বিরাট অবদান। এরপর ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী খুবই স্ট্র্যাটেজিক ভাবে লাক্ষাদ্বীপকে প্রমোট করেন। মালদ্বীপ থেকে মুখ ফিরিয়ে স্বদেশি লাক্ষাদ্বীপে পর্যটক বাড়তে শুরু করে দেয়। মোদী সে বার লাক্ষাদ্বীপ থেকে ফিরে এসে এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছিলেন, ‘লাক্ষাদ্বীপের প্রশান্তি আমাকে ১৪০ কোটি ভারতবাসীর কল্যাণের জন্য আরও কঠোর পরিশ্রম করার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। এখানে এসে আমি এই নিয়ে শান্ত মনে ভাবতে পেরেছি।’

চিনকে থিলাফুশি বন্দরের দায়িত্ব ফেব্রুয়ারিতে মালদ্বীপ ঘোষণা করলেও তখন ভারতে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়নি। তবে সম্প্রতি তা নতুন করে নজর কেড়েছে। কারণ এই প্রকল্পের মাধ্যমে মালদ্বীপ কীভাবে ভারত ও চিনের মধ্যে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রেখে চলছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। একইসঙ্গে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জুর নয়াদিল্লির দিকে সাম্প্রতিক নাটকীয় রাজনৈতিক ঝোঁক বাড়ার ঘটনায় কয়েক দিনের মধ্যেই এই বিষয়টি ফের চর্চায় এসেছে।

মালদ্বীপে থিলাফুশি বন্দরের অবস্থান
মালদ্বীপে থিলাফুশি বন্দরের অবস্থান

ভারতের প্রকল্পে চিনা এন্ট্রি

থালাফুশি একটি কৃত্রিম দ্বীপ। রাজধানী মালের পশ্চিমে অবস্থিত। ১৯৯১ সালে এই দ্বীপটি তৈরি করেছিল মালদ্বীপ সরকার। থিলাফুশি প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ পেয়েছে চিনা সংস্থা। মালদ্বীপে ভারতের যোগাযোগ পরিকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও থিলাফুশি ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এই বন্দর চালু হলে ভবিষ্যতে মালদ্বীপের বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহণ ও কার্গো পরিচালনার বড় একটি অংশ ঠাসাঠাসি ও অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকা রাজধানী মালে থেকে থিলাফুশিতে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Advertisement

এখন চিনা সংস্থাকে বরাত দেওয়াটা মুখ্য নয়। বিষয় হল, দীর্ঘমেয়াদে থিলাফুশিকে কেন্দ্র করে মালদ্বীপের বাণিজ্যিক সামুদ্রিক পরিকাঠামোকে নতুন করে সাজানোর যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, এটি তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর এখানেই এই প্রকল্পের সঙ্গে ভারতের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

থিলাফুশি বন্দর ইতিমধ্যে মালদ্বীপে ভারতের যোগাযোগ পরিকাঠামোয় বিনিয়োগের অন্যতম

বস্তুত, ভারতের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প গ্রেটার মালে কানেক্টিভিটি প্রজেক্টের ক্ষেত্রে থিলাফুশি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি ভারতের বিনিয়োগে থিলামালে ব্রিজ প্রকল্পের ভূয়সী প্রশংসা করতে গিয়ে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের বার্তা দেন মুইজ্জু। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও প্রশংসা করেন। গ্রেটার মালে কানেক্টিভিটি প্রজেক্ট হল, ৬.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সেতু, রাস্তা, যা রাজধানী মালের সঙ্গে ভিলিমালে, গুলহিফালহু ও থিলাফুশিকে যুক্ত করছে। ভারতের এক্সিম ব্যাঙ্ক ৪০০ মিলিয় মার্কিন ডলারের ঋণ দিচ্ছে, এছাড়া আলাদা করে ১০০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিচ্ছে ভারত। তাই  শুধুমাত্র ভারত বনাম চিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখলে বিষয়টি অত্যন্ত সরলীকরণ হয়ে যাবে। যে প্রকল্পে সরাসরি ভারত যুক্ত, সেই প্রকল্পেরই অন্যতম অংশ থিলাফুশি বন্দরের উন্নয়নের বরাত মালদ্বীপ চিনকে দিল। অর্থাত্‍ একই প্রকল্পে ভারত ও চিনকে এন্ট্রি। 

কদা 'ইন্ডিয়া আউট' ক্যাম্পেন চালিয়েছিলেন মুইজ্জু

মুইজ্জুর এই পদক্ষেপে স্পষ্ট, নয়াদিল্লির সঙ্গে দোস্তি বাড়ালেও বেজিংয়ের হাত ছাড়ছে না মালদ্বীপ। ২০২৩ সালে মুইজ্জু ক্ষমতায় আসার পরেই 'ইন্ডিয়া আউট' ক্যাম্পেন শুরু করেছিলেন। চিনের সঙ্গে সখ্য বাড়িয়ে নেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতোই ক্ষমতায় এসেই প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মুইজ্জু বেছে নেন চিন। কিন্তু দেশের অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি দেখে দু পা এগিয়েও পিছিয়ে আসতে বাধ্য হন তিনি। প্রবল আর্থিক চাপ ও বিরাট ঋণের বোঝা কমাতে ভারতের শরণাপন্নই হতে হয়।  সেই পরিস্থিতিতে আর্থিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়ায় ভারত। ভারত ৪০০ মিলিয়ন ডলারের একটি কারেন্সি সোয়্যাপ ব্যবস্থা করে। পাশাপাশি RBI-এর মাধ্যমে ৩,০০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়। মালের আর্থিক দায় মেটাতে স্বল্পমেয়াদী আর্থিক সহায়তাও দিয়েছিল নয়াদিল্লি।

সার্বিক পরিস্থিতি দেখে একদা ইন্ডিয়া আউট ক্যাম্পেন চালানো মুইজ্জু ইউ টার্ন নিয়ে দিল্লির সঙ্গে দোস্তি বাড়াতে শুরু করেন। কিন্তু থিলাফুশি বন্দরে চিনকে ঢুকিয়ে বেজিংয়ের সঙ্গে দোস্তি রাখার খেলা খেলছেন মুইজ্জু। এখানেই তাঁর দ্বিচারিতা ফুটে উঠছে। ফুটে উঠছে চিন-প্রীতিও।

POST A COMMENT
Advertisement