খরা আর লু বাড়বে কয়েকগুণ, সংকটের মুখে পৃথিবীর ২৬০ কোটি মানুষ

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, খরা আর লু এখন আর আলাদা কোনো দুর্যোগ নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। আকাশ থেকে যখন আগুনের গোলা নামছে, তখন সেই তাপপ্রবাহ মাটির শেষ বিন্দু জল শুষে নিয়ে খরা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।

Advertisement
খরা আর লু বাড়বে কয়েকগুণ, সংকটের মুখে পৃথিবীর ২৬০ কোটি মানুষখরা আর লু বাড়বে কয়েকগুণ, সংকটের মুখে পৃথিবীর ২৬০ কোটি মানুষ

পৃথিবী কি তবে ধ্বংসের দোরগোড়ায়? জলবায়ু পরিবর্তনের যে ভয়াবহ ছবি এখন সামনে আসছে, তাতে শিউরে উঠছেন বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বিশ্বের প্রায় ২৬০ কোটি মানুষ এখন এক চরম সংকটের মুখে। তবে এবারের বিপদ শুধু একটি দুর্যোগ নয়, বরং 'কম্পাউন্ড ইভেন্ট' বা যৌথ অভিশাপ। একদিকে হাড়কাঁপানো খরা আর অন্যদিকে চড়চড় করে বাড়তে থাকা তাপপ্রবাহ, এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে পিষ্ট হতে চলেছে অর্ধেকের বেশি পৃথিবী।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, খরা আর লু এখন আর আলাদা কোনো দুর্যোগ নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। আকাশ থেকে যখন আগুনের গোলা নামছে, তখন সেই তাপপ্রবাহ মাটির শেষ বিন্দু জল শুষে নিয়ে খরা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। এই দ্বিমুখী আক্রমণে সবার আগে ভেঙে পড়ছে কৃষি ব্যবস্থা। টান পড়ছে পানীয় জলে। মানুষের স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে জীবিকা। সবই এখন বিশ বাঁও জলে। গবেষণায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, বাতাসের এলোমেলো গতি আর খামখেয়ালি বৃষ্টিপাত এই 'কম্পাউন্ড ইভেন্ট'-এর প্রকোপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সবচেয়ে বড় আশঙ্কার কথা হলো, এই চরম আবহাওয়ায় তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে পৃথিবীর বাস্তুসংস্থান। বিশেষ করে উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশের যে মানুষগুলো চাষবাস করে জীবন চালায়, তাঁদের ওপর নেমে আসছে চরম বিপর্যয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, কার্বন নিঃসরণ কমানোর বৈশ্বিক পদক্ষেপগুলো এখনই কার্যকর না হলে আগামী দশকে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে।

একে স্রেফ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বললে ভুল হবে, এটি আসলে একটি 'ক্যাসকেডিং ক্লাইমেট রিস্ক' বা ধারাবাহিক বিপর্যয়। যা কি না বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে পুরোপুরি ধসিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। সময় থাকতে সাবধান না হলে, আগামীর পৃথিবী হয়তো শুধুই এক ধূসর মরুভূমি হয়েই থেকে যাবে।

 

POST A COMMENT
Advertisement