কোভিড রহস্যে বড় মোড়, উহান ল্যাবের গবেষণায় মার্কিন ফান্ডিংয়ের অভিযোগ।Covid Origin Controversy: কোভিড-১৯ নিয়ে ভয়ানক দাবি করলেন মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড(Tulsi Gabbard)। তাঁর দাবি, আমেরিকার সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফৌসির(Anthony Fauci) অনুমোদনেই চিনের উহান ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজিতে(Wuhan Institute of Virology) বিপজ্জনক গবেষণার জন্য US ফান্ডিং দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, উহানের সেই গবেষণাগারকেই এখন কোভিডের সম্ভাব্য উৎস বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
শুক্রবারই গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে তুলসি গাব্বার্ডের মেয়াদের শেষ দিন ছিল। আর সেই শেষ দিনই এমন বিস্ফোরক দাবি করলেন তুলসি গ্যাবার্ড। তাঁর দাবি, এই নথিগুলি আগে কখনও প্রকাশ্যে আসেনি। সেখানেই উঠে এসেছে উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে ‘গেইন-অফ-ফাংশন’ গবেষণার জন্য লক্ষ লক্ষ ডলার বরাদ্দের তথ্য।
কী অভিযোগ তুললেন গ্যাবার্ড?
Today, on my final day as Director of National Intelligence, I’m releasing never-before-seen communications and documents exposing how Dr. Fauci provided millions in US taxpayer dollars to fund dangerous gain-of-function research at the Wuhan lab, worked with politicized elements… pic.twitter.com/ZMdliW4zyS
— DNI Tulsi Gabbard (@DNIGabbard) June 19, 2026
এক্স-এ প্রকাশিত একটি ভিডিও মেসেদে গ্যাবার্ড দাবি করেন, ডঃ ফাউসি এবং গোয়েন্দা মহলের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি কোভিডের প্রকৃত উৎস আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন।
তাঁর কথায়, 'মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে উহানের গবেষণাগারে বিপজ্জনক গেইন-অফ-ফাংশন গবেষণার জন্য অর্থ দেওয়া হয়েছিল। সেই সংক্রান্ত নথি আমি প্রকাশ করছি।'
গ্যাবার্ড আরও দাবি করেন, কোভিডের উৎস নিয়ে যে গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাঁদের অনেকেই চাপ, প্রতিশোধের আশঙ্কা এবং পেশা জীবনে ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন।
'গেইন-অফ-ফাংশন' গবেষণা মানে?
গেইন-অফ-ফাংশন গবেষণায় কোনও জীবাণু বা ভাইরাসের জিনগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে তার নতুন ক্ষমতা তৈরি করা হয়। চিকিৎসা বা কৃষি গবেষণায় এর ব্যবহার থাকলেও, সমালোচকদের মতে এই ধরনের পরীক্ষা ভাইরাসকে আরও সংক্রামক বা বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।
এই বিতর্কের জেরেই গত বছর প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর প্রশাসন সরকারি অর্থে গেইন-অফ-ফাংশন গবেষণার উপর স্থগিতাদেশ জারি করেছিল।
এখনও অজানা কোভিডের প্রকৃত উৎস
বিশ্বজুড়ে ৭১ লক্ষেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে কোভিডে। তবুও SARS-CoV-2 ভাইরাসের প্রকৃত উৎস নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি।
তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, প্রাণী থেকে সংক্রমণের তুলনায় উহানের গবেষণাগার থেকে দুর্ঘটনাবশত ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি।
গ্যাবার্ডের দফতর থেকে প্রকাশিত নথিতেও দাবি করা হয়েছে, উহানের ওই গবেষণাগার থেকেই অনিচ্ছাকৃত ভাবে ভাইরাস বাইরে ছড়িয়ে পড়ে থাকতে পারে।
ডঃ ফাউসির প্রতিক্রিয়া কী?
এখনও পর্যন্ত গ্যাবার্ডের সাম্প্রতিক অভিযোগের জবাব দেননি ফাউচি। তবে এর আগে তিনি কোভিডের উৎস গোপন করার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের এক শুনানিতে তিনি এই ধরনের অভিযোগকে “সম্পূর্ণ অযৌক্তিক” বলে বর্ণনা করেছিলেন।
বাড়ছে বিতর্ক
কোভিডের উৎস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক স্তরে বিতর্ক চলছে। নতুন নথি প্রকাশের পর সেই বিতর্ক আবারও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে প্রকাশিত নথিগুলির দাবির সত্যতা এখনও কারও জানা নেই। ফলে আসল বিষয়টি কী, তা এখনও কেউ জানেন না।