ইবোলার নয়া স্ট্রেনে আতঙ্ক কঙ্গো ও উগান্ডায়।একে হান্টা ভাইরাসের দুশ্চিন্তা। তার মধ্যে আবার ইবোলা। আফ্রিকার কঙ্গো এবং উগান্ডায় ফের মাথাচাড়া দিয়েছে ইবোলা ভাইরাস। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে World Health Organization বা WHO। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এবার যে স্ট্রেন ছড়াচ্ছে, সেটি ইবোলার অত্যন্ত বিপজ্জনক ‘বুন্ডিবুগিয়ো’ (Bundibugyo) ভ্যারিয়েন্ট। এই স্ট্রেনের জন্য এখনও নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা ওষুধ নেই বলেই উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
WHO সূত্রে খবর, কঙ্গোর ইটুরি প্রদেশ এবং উগান্ডার সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যেই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা, কনট্যাক্ট ট্রেসিং এবং আক্রান্তদের আলাদা রাখার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
বুন্ডিবুগিয়ো ইবোলা স্ট্রেন
ইবোলা ভাইরাসের একাধিক ধরন রয়েছে। তবে মানুষের মধ্যে বড় আকারে সংক্রমণ সাধারণত তিন ধরনের স্ট্রেন থেকে ছড়ায়; জাইরে, সুদান এবং বুন্ডিবুগিয়ো। তার মধ্যে জাইরে স্ট্রেন সবচেয়ে মারাত্মক বলে পরিচিত। কিন্তু এবার যে বুন্ডিবুগিয়ো স্ট্রেন ছড়াচ্ছে, সেটিও কম ভয়ঙ্কর নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রথম এই স্ট্রেনের খোঁজ মেলে ২০০৭-০৮ সালে উগান্ডার বুন্ডিবুগিয়ো জেলায়। সেই সময় ১১৬ জনের বেশি আক্রান্ত হয়েছিলেন। মৃত্যুর হার ছিল প্রায় ৩৪ থেকে ৪০ শতাংশ। কিছু রিপোর্টে সেই হার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল বলেও উল্লেখ রয়েছে।
বর্তমানে কঙ্গোয় এটি ইবোলার ১৭তম বড় সংক্রমণ বলেই জানা গিয়েছে। তবে এবারের চ্যালেঞ্জ হল, এই স্ট্রেনের বিরুদ্ধে এখনও কার্যকর ভ্যাকসিন নেই। ফলে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
উপসর্গ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলার সব স্ট্রেনের উপসর্গ প্রায় একই রকম। প্রথম দিকে সাধারণ ফ্লুয়ের মতো লক্ষণ দেখা দেয়। আচমকা জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা, ক্লান্তি এবং দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
কয়েক দিনের মধ্যে বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা এবং গলা ব্যথার মতো সমস্যা শুরু হয়। সংক্রমণ বাড়লে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হতে পারে। চোখ, মাড়ি বা শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্তক্ষরণ, শ্বাসকষ্ট এবং শরীরের অঙ্গ বিকল হওয়ার মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
সংক্রমণের ২ থেকে ২১ দিনের মধ্যে উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। আক্রান্তের রক্ত, লালা, বমি বা শরীরের অন্য তরলের সংস্পর্শে এলেই ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। মৃতদেহ স্পর্শ করা বা শেষকৃত্যের সময়ও সংক্রমণের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।
তবে WHO জানিয়েছে, এই ভাইরাস বাতাস, জল বা পোকামাকড়ের মাধ্যমে ছড়ায় না।
চিকিৎসা সম্ভব?
এই মুহূর্তে বুন্ডিবুগিয়ো স্ট্রেনের জন্য নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ বা ভ্যাকসিন নেই। ফলে মূল ভরসা দ্রুত চিকিৎসা এবং সাপোর্টিভ কেয়ার। শরীরে জল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখা, জ্বর ও ব্যথার ওষুধ দেওয়া, প্রয়োজন হলে অক্সিজেন বা রক্ত দেওয়া; এই ধরনের চিকিৎসাই করা হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, যত দ্রুত রোগীকে আলাদা করে চিকিৎসা শুরু করা যাবে, বেঁচে থাকার সম্ভাবনা তত বাড়বে। তাই প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কেন বাড়ছে উদ্বেগ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কঙ্গো এবং উগান্ডার সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা সমস্যা থাকায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি রাজধানী কিনশাসা এবং কাম্পালাতেও কিছু সংক্রমণের খবর সামনে এসেছে। সেই কারণেই প্রতিবেশী দেশগুলিকেও সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছে WHO।
যদিও এখনও একে মহামারির পর্যায়ে পৌঁছেছে বলা হচ্ছে না, তবু আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য মহলের মতে, পরিস্থিতি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। আফ্রিকার বহু দেশে অতীতেও ইবোলা সংক্রমণ দেখা গিয়েছে। তবে দ্রুত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং সচেতনতার মাধ্যমেই এই ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।