পাকিস্তানের স্কুলে দুর্ঘটনা (ছবি : রয়টার্স) পাকিস্তানে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। স্কুলের ছাদ ভেঙে মৃত্যু হল ২৮ জন পড়ুয়া-সহ অন্তত ২৯ জনের। বৃহস্পতিবার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারের একটি বেসরকারি স্কুলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন এক মহিলা শিক্ষিকাও। ঘটনায় ৪০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও একাধিক পড়ুয়া ও স্কুলকর্মী আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা। তাঁদের উদ্ধারে তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশোয়ারের জনবহুল দির কলোনি এলাকায় স্কুলটি অবস্থিত। বৃহস্পতিবার আচমকাই স্কুলের ছাদ ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যান পড়ুয়া ও স্কুলের কর্মীরা। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উদ্ধারকারী দল। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া পড়ুয়া ও কর্মীদের উদ্ধারের কাজ শুরু হয়।
লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মহম্মদ আসিম জানিয়েছেন, মৃত ২৮ জন পড়ুয়ার প্রত্যেকের বয়স ১৩ বছর বা তার কম। তাঁদের মধ্যে ছ'জন ছাত্রী। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
স্কুলের মালিক গ্রেফতার
দুর্ঘটনার পর স্কুলের মালিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্কুলটির নির্মাণের গুণমান এবং ছাদ ভেঙে পড়ার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য, স্কুলের ভবনটি কাঠামোগতভাবে দুর্বল ছিল। তবে ঠিক কী কারণে এই বিপর্যয় ঘটল, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনার আফাক ওয়াজির ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে স্কুল ভবনের নির্মাণকাজ, কাঠামোর অবস্থা এবং নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর থেকেই উদ্ধারকাজ চলছে। জরুরি পরিষেবার মুখপাত্র বিলাল ফৈজি জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নীচে বেশ কয়েকজন পড়ুয়া আটকে থাকতে পারেন। তাঁদের কাছে পৌঁছতে সাবধানে ধ্বংসস্তূপ সরানো হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা যাতে আটকে পড়া পড়ুয়া ও স্কুলকর্মীদের কাছে দ্রুত পৌঁছতে পারেন, সেই চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রথমদিকে উদ্ধারকাজে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শী মহম্মদ খান জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়া পড়ুয়া ও কর্মীদের কাছে পৌঁছতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসাবশেষ সরানো হচ্ছিল। এদিকে, দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্কুল ও হাসপাতালের বাইরে ভিড় করেন অভিভাবকরা। সন্তানদের খোঁজ পেতে উদ্বিগ্ন হয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায় তাঁদের। আহতদের চিকিৎসা এবং নিখোঁজ পড়ুয়াদের সন্ধান পাওয়ার দিকেই এখন নজর রয়েছে প্রশাসনের।
শোকপ্রকাশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর
এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সল করিম কুন্দিও ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন।