বেজিঙে ট্রাম্পের পাল্টিDonald Trump China visit 2026: আট বছর পর আবার সেই বেইজিং। তবে ২০১৭-র ট্রাম্প আর ২০২৬-এর ট্রাম্পের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ। একসময় যাকে ‘চিনা ভাইরাস’ বলে আক্রমণ করতেন কিংবা যে দেশের ওপর ট্যারিফের পাহাড় চাপিয়েছিলেন, সেই চিনের মাটিতে দাঁড়িয়েই প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ‘মহান নেতা’ বলে দরাজ সার্টিফিকেট দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ১৪ ও ১৫ মে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অফ দ্য পিপলে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠক ঘিরে এখন সরগরম বিশ্ব রাজনীতি। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ আর হরমুজ প্রণালীর সংকটে যখন বিশ্ব অর্থনীতি ধুঁকছে, তখন ট্রাম্প-শি মোলাকাত নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আমরা দেখলাম, তিয়ান আন মেন স্কোয়ারে ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে ট্রাম্পকে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানাল চিন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সফরে সঙ্গী ছিলেন এলন মাস্ক ও এনভিডিয়া প্রধান জেনসেন হুয়াং-এর মতো ব্যক্তিত্বরা। দুই নেতার দুই ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল হরমুজ প্রণালীর রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি।
বৈঠকের নির্যাস ও বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট
জ্বালানি নিরাপত্তা ও হরমুজ: ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কার্যত স্তব্ধ। বিশ্বের ২০-২৫ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই পথে যাতায়াত করে। বর্তমানে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। ট্রাম্প ও শি, উভয়ই একমত হয়েছেন যে বিশ্ব অর্থনীতি বাঁচাতে এই জলপথ খোলা রাখা আবশ্যিক।
ইরান ও পরমাণু ইস্যু: দুই দেশই একসুরে জানিয়েছে, ইরানের হাতে কোনওভাবেই পরমাণু অস্ত্র আসা চলবে না। মজার বিষয় হলো, চিন এখন উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আমেরিকার থেকে বেশি করে তেল আমদানিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
কূটনৈতিক ভোলবদল
মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও এবং চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই স্পষ্ট করেছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে কোনও দেশই জাহাজের ওপর ‘টোল’ বা মাসুল চাপাতে পারবে না।
চিনের ভূমিকা
ইরান মূলত চিনের বড় তেলের খরিদ্দার। তাই তেহরানের ওপর বেজিংয়ের প্রভাবকে কাজে লাগাতে চাইছে ওয়াশিংটন। এমনকি চিনের মধ্যস্থতাতেই ইরান একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে রাজি হয়েছে বলে খবর।
এর আগে তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে জিনপিং কড়া সতর্কবার্তা দিলেও ট্রাম্পের গলায় ছিল বন্ধুত্বের সুর। ফেন্টানিল পাচার রোধ এবং উন্নত চিপ টেকনোলজি নিয়েও কথা হয়েছে তাঁদের মধ্যে। এই সামিট কোনও চূড়ান্ত সমাধান না দিলেও উত্তপ্ত বিশ্ব পরিস্থিতিতে একটা ‘কুলিং পিরিয়ড’ হিসেবে কাজ করবে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা। ১৩ এপ্রিল থেকে আমেরিকা ইরানের ওপর যে নৌ-অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে, তাতে বিশ্ব বাণিজ্য এখন খাদের কিনারায়। এই অবস্থায় ট্রাম্পের বেইজিং সফর কি সত্যিই হরমুজ প্রণালীর জট খুলবে? উত্তর লুকিয়ে আছে আগামী কয়েক সপ্তাহে।