
অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে চমক ট্রাম্পেরআগেই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ভেনেজুয়েলাকে বছরের পর বছর শাসন করতে পারে আমেরিকা। আর এবার সেই ধাপে আরও একধাপ এগিয়ে নিজেকেই ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে একটি ছবি দিয়ে নিজেকে ভেনেজুয়েলার 'ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট' হিসেবে ঘোষণা করেন।
ট্রাম্পের এই পোস্টের পরেই ফের শুরু হয়েছে বিতর্ক। ভেনেজুয়েলার তেল-খনিজের জন্যই এই এয়ারস্ট্রাইক ও ক্রমান্বয়ে মার্কিন পদক্ষেপ কিনা তা নিয়ে আবার বিশ্বজুড়ে চর্চা চলছে।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় এয়ারস্ট্রাইক করে ওই দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে রাজধানী কারাকাসের সেফ হোম থেকে তুলে নিউইয়র্কে নিয়ে আসে আমেরিকা। সঙ্গে আনা হয় তাঁর স্ত্রীকেও। বর্তমানে মাদক মামলা-সহ একাধিক মামলায় মাদুরোকে বিচারাধীন রাখা হয়েছে। আর এসবের মধ্যেই ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজেকে বসালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যদিও, দিনকয়েক আগে ট্রাম্প সর্বসমক্ষেই জানান, তাঁর লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার তেলের খনি হাতানো। সেই দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করবেন তিনি। এমনকী মাদুরোর তদানীন্তন ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। আমেরিকা দাবি করে, ডেলসি আমেরিকাকে সাহায্য করবে।
কেন ভেনেজুয়েলা দখলে রাখলেন ট্রাম্প?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপুল খনিজ তেলের ভাণ্ডার ভেনেজুয়েলা। সেই খনিজ তেলেই নজর ট্রাম্পের। ভেনেজুয়েলা এক সময় ছিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ। OPEC (অর্গানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ)–এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। OPEC এমন একটি জোট, যেখানে বিশ্বের বড় বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ রয়েছে, এবং যাদের সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারে তেলের দাম নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। OPEC-এর তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে। এছাড়াও, দেশটিতে সোনার খনিও বিদ্যমান। ফলে সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার দখল যে আমেরিকা নিজের কাছেই রাখবে তা আগে থেকেই স্পষ্ট ছিল। কার্যক্ষেত্রে হলও তাই।