US Midterm Elections 2026: ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলেই কি সব ট্যারিফ উঠে যাবে? এদিকে আরও মারাত্মক কিছুর প্রস্তুতি চলছে!

আগামী বছর ট্যারিফ প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতীকী ভোটাভুটির উদ্যোগও নিতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। তবে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ এবং কংগ্রেসের কর্মীদের একাংশের মতে, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেও নতুন করে ট্যারিফ আরোপের পথে হাঁটা থেকে ট্রাম্পকে বিরত রাখা কঠিন হতে পারে।

Advertisement
ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলেই কি সব ট্যারিফ উঠে যাবে? এদিকে আরও মারাত্মক কিছুর প্রস্তুতি চলছে!মিডটার্ম নির্বাচনে কানসাসে প্রচারসভায় ডোনাল্ড ট্রাম্প - রয়টার্স
হাইলাইটস
  • ট্যারিফ প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতীকী ভোটাভুটির উদ্যোগ
  • তবুও ট্রাম্পকে আটকানো কঠিন হবে ডেমোক্র্যাটদের কাছে
  • ট্যারিফ প্রত্যাহার নিয়ে প্রতীকী ভোট

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। আমেরিকায় যাকে বলা হয় মিডটার্ম ইলেকশন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি আগামী দু'বছর কার্যকর হবে কিনা, জনপ্রিয়তা কমেছে কিনা, এই সব প্রশ্নে উত্তর মিলবে এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে। ৩ নভেম্বর মিডটার্ম নির্বাচন ঘিরে যখন ডেমোক্র্যাটরা পাওয়ার শিফটের আশায় বুক বাঁধছে, তখন ট্রাম্প প্রশাসন আরও একাধিক কড়া এগজিকিউটিভ অ্যাকশনের তোড়জোড় করছে। আরও বেশি করে ট্যারিফ চাপানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্প। 

ট্যারিফ প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতীকী ভোটাভুটির উদ্যোগ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি নিয়ে ফের রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে পড়তে হতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতি নিয়ে একাধিক নজরদারিমূলক শুনানির আয়োজন করতে পারে তারা। আগামী বছর ট্যারিফ প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতীকী ভোটাভুটির উদ্যোগও নিতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। তবে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ এবং কংগ্রেসের কর্মীদের একাংশের মতে, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেও নতুন করে ট্যারিফ আরোপের পথে হাঁটা থেকে ট্রাম্পকে বিরত রাখা কঠিন হতে পারে।

ডেমোক্র্যাটস পার্টির সেনেটর রন ওয়াইডেনের কথায়, 'আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার পাবে কানাডার উপর থেকে ট্যারিফ প্রত্যাহার। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের জেরে জিনিসের দাম বাড়ছে এবং সীমান্তের দু’পারেরই জনজীবন ও স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।'  

তবুও ট্রাম্পকে আটকানো কঠিন হবে ডেমোক্র্যাটদের কাছে

মার্কিন কংগ্রেসে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সেনেট, দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা অতিক্রম করতে ডেমোক্র্যাটদের চারটি করে আসন বাড়াতে হবে। বর্তমানে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টিটিভসে রিপাবলিকানদের আসনসংখ্যা ২১৮-২১৪ এবং সেনেটে ৫৩-৪৭। জনমত সমীক্ষার ইঙ্গিত, হাউস অফ রিপ্রেজেন্টিটিভস-এর নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেনেটের লড়াই এখনও হাড্ডাহাড্ডি, ফলে আগাম কোনও পূর্বাভাস দেওয়া যাচ্ছে না।

যদিও ডেমোক্র্যাটরা একটি বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে পায়, তবুও প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা খারিজ করার জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের হাতে আসার সম্ভাবনা কম। ফলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ট্রাম্পের কোনও সিদ্ধান্ত বা বিলের উপর প্রেসিডেন্টের ভেটো প্রয়োগ আটকানো ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে কঠিন হবে।

Advertisement

ট্যারিফ প্রত্যাহার নিয়ে প্রতীকী ভোট

সেনেট ও হাউস অফ রিপ্রেজেন্টিটিভস, এই দুইয়ের মধ্যে একটি কক্ষও যদি ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তা হলেই তারা 'এন্ড ট্রাম্পস ট্যারিফ ট্যাক্স অ্যাক্ট' সহ বাণিজ্য নীতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার পথে হাঁটবে। প্রস্তাবিত ওই বিলে ১৯৩০ সালের ট্যারিফ আইনের ৩৩৮ নম্বর ধারা বাতিল করার কথা বলা হয়েছে। এই ধারার ভিত্তিতেই কানাডার পণ্যের উপর শাস্তিমূলক ট্যারিফ আরোপের আইনি ক্ষমতা রয়েছে। ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ নম্বর ধারাও বাতিল করতে চায় ডেমোক্র্যাটরা। ট্রাম্প প্রশাসন এই ধারার অধীনেই সাময়িকভাবে বিশ্বজুড়ে ১০ শতাংশ ট্যারিফ আরোপ করেছিল।

রন ওয়াইডেন-সহ মোট ২৮ জন সেনেটর প্রস্তাবিত বিলটিকে সমর্থন করেছেন। শুধু ওই দুই আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা বাতিল করাই নয়, অতীতে এই আইনগুলির আওতায় যে সমস্ত ট্যারিফ আদায় করা হয়েছে, সেই অর্থও সংশ্লিষ্টদের ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে বিলে। তবে ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের অনাবাসিক উপদেষ্টা উইলিয়াম রেইনশের মতে, ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে এই উদ্যোগকে কার্যকর আইনে পরিণত করা কঠিন হবে। কারণ কংগ্রেসের কোনও কক্ষেই দুই দলের কারও ভেটো খারিজ করার মতো দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

রেইনশের কথায়, 'ডেমোক্র্যাটরা অনেক ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু কোনও উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হবে বলে মনে হয় না। কারণ, কোনও পরিস্থিতিতেই দুই দলের কারও হাতে প্রেসিডেন্টের ভেটো খারিজ করার মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে না।'

POST A COMMENT
Advertisement