
ভারত এবং চিনের উপর ৫০০% শুল্ক বাড়িয়ে দিতে পারে আমেরিকা। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এই বড় ধাক্কাটি দিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প একটি দ্বিদলীয় নিষেধাজ্ঞা বিল অনুমোদন দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এই বিলে মাধ্যমে, রাশিয়া থেকে তেল কেনে এমন দেশগুলিকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে ওয়াশিংটনের হাতে।
রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম এক পোস্টে জানান, বুধবার একটি ফলপ্রসূ বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট এই আইনটিকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আগামী সপ্তাহেই এই বিলটি ভোটাভুটির জন্য তোলা হতে পারে।' এই আইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চিন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলির উপর বড় চাপ তৈরি করার সুযোগ দেবে। তাদেরকে রাশিয়া থেকে ছাড়ে তেল কেনা বন্ধ করতে বাধ্য করা যাবে। এমনটাই জানাচ্ছেন গ্রাহাম। তাঁর বক্তব্য, 'এই আইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সেই দেশগুলিকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা দেবে, যারা সস্তা রুশ তেল কিনে পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে জ্বালানি জোগাচ্ছে।'
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রাশিয়ার তেল কেনা চালিয়ে যাওয়ার কারণে ভারতের উপর নতুন করে শুল্ক বসানো হতে পারে। গত সপ্তাহান্তে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানতেন আমি খুশি নই। উনি আমায় খুশি করতে পারেননি।'
এদিকে, যা কিছু আমেরিকার স্বার্থের পরিপন্থী তা বাতিল করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইতিমধ্যেই একটি স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করে ফেলেছেন এই মর্মে। ট্রাম্প প্রশাসন তাঁর আমেরিকা ফার্স্ট নীতি অনুসরণ করে এই চুক্তি বাতিলের তালিকায় রেখেছে ভারত এবং ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক সৌরশক্তি চুক্তিকেও (International Solar Alliance)। মোট ৬৬টি বিশ্বব্যাপী সংস্থা থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউস এই সংস্থাগুলিকে মার্কিন সার্বভৌমত্ম এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের বিরোধী বলে উল্লেখ করেছে।
হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা প্রেসিডেন্টের একটি বিবৃতিতে ঘোষণা করা হয়েছে, ৩৫টি রাষ্ট্রসঙ্ঘ বহির্ভূত সংস্থা এবং ৩১টি রাষ্ট্রসঙ্ঘের সংস্থা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে আমেরিকা। এই সংস্থাগুলির মধ্যেই রয়েছে ভারত ও ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক সোলা অ্যালায়েন্স, পরিবেশ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজার্ভেশন অফ নেচার এবং ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ। এছাড়াও তালিকায় রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ফোরাম, ইন্টারন্যাশনাল রিনিউএবল এনার্জি এজেন্সি, পার্টনারশিপ ফর আটলান্টিক কো-অপারেশন এবং গ্লোবাল কাউন্টারটেররিজম ফোরাম সহ আরও বেশ কয়েকটি সংস্থা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই সিদ্ধান্তটি এসেছে প্রায় এক বছর পর, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) থেকে বেরিয়ে আসার কথা ঘোষণা করেছিলেন। একই বছরের জুলাই মাসে আমেরিকা ইউনেস্কো (UNESCO) থেকেও সরে দাঁড়ায়, কারণ প্রশাসনের মতে, সংস্থাটি মার্কিন 'জাতীয় স্বার্থে' কাজ করছিল না।