Iran Protest: 'এমন জায়গায় মারব, যেখানে সবচেয়ে বেশি ব্যথা লাগবে,' ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরান যদি আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালায় তাহলে আমেরিকারও পাল্টা গুলি চালাতে শুরু করবে। এমন হুঁশিয়ারিই দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখানেই শেষ নয়। তিনি চরম হুমকি দিয়ে বলেছেন, 'এমন জায়গায় মারব, যেখানে সবচেয়ে বেশি ব্যথা লাগবে।'

Advertisement
 'এমন জায়গায় মারব, যেখানে সবচেয়ে বেশি ব্যথা লাগবে,' ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
হাইলাইটস
  • ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প
  • ইরান আন্দোলনকারীদের হত্যা করলে আমেরিকাও গুলি চালাবে
  • খামেনেই বিরোধী বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে

ইরানে জনগণের বিক্ষোভ ক্রমশই বাড়ছে। তার মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে ওপেন চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, 'ইরানে বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালালে আমেরিকাও পাল্টা গুলি চালাবে। যেখানে আক্রমণ করলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে, সেখানেই হামলা চালাব।' তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আমেরিকা গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। 

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, 'ইরান বেশ সমস্যায় পড়েছে। আমার মনে হচ্ছে মানুষ এমন আন্দোলন করছে যা কেউ কল্পনাও করেনি।' তাঁর সংযোজন, 'আমরা ইতিমধ্যেই খুব স্পষ্ট ভাবে ওদের সতর্ক করে দিয়েছি। যদি তারা অতীতের মতো মানুষ হত্যা শুরু করে তাহলে আমরাও হস্তক্ষেপ করব। যেখানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে সখানেই আমরা তাদের কঠোর ভাবে আঘাত করব।'

অর্থাৎ মার্কিন সামরিক বাহিনীকে পাঠানো হবে বলেই কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। ইরানে দিনের পর দিন যা চলছে, তাকে মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, 'ইরানে যা ঘটছে তা সত্যিই অবিশ্বাস্য়। ওরা ওদের জনগণের সঙ্গে ভয়াবহ আচরণ করছে এবং এখন তারা এর মূল্য দিচ্ছে। দেখা যাক পরবর্তীতে কী হয়। আমরা খুব কাছ থেকে এটা পর্যবেক্ষণ করছি।' বিক্ষোভকারীদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, 'আমি আশা করি ইরানের বিক্ষোভকারীরা নিরাপদে থাকবে। এটি এখন খুবই বিপজ্জনক একটি জায়গা। আমি আবারও ইরানি নেতাদের কাছে গুলি না চালানোর আর্জি জানাচ্ছি। কারণ যদি তোমরা গুলি চালাও তাহলে আমরাও পাল্টা গুলি চালাব।'

নীতি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার অনুসারে, ৭ জানুয়ারি থেকে ইরানে বিক্ষোভের তীব্রতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। এই বিক্ষোভ তেহরান সহ উত্তর পশ্চিম ইরনের প্রধান শহরগুলিতে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানি শাসকগোষ্ঠী দমন-পীড়ন বাড়িয়েছে এবং অন্তত একটি প্রদেশে বিক্ষোভ দমনের জন্য ইসলামিক রেভেলিউশনারি গার্ড কর্পসের স্থল বাহিনী মোতায়েন করেছে। যা বিরল পদক্ষেপ হিসেবেই মনে করছেন তাঁরা। 

Advertisement

শুক্রবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই ব্যাপক বিক্ষোভের জন্য সরাসরি আমেরিকাকে দায়ী করেছিলেন। এক জনসভায় খামেনেই বলেন, 'বিক্ষোভকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করার জন্য কাজ করছে। তেহরান এবং অন্যান্য কিছু জায়গায় ভাঙচুরকারী কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেখানোর জন্যই নিজের দেশের ভবনের ক্ষতি করছে।'

ইরানের সর্বোচ্চ এই নেতা ট্রাম্পকে একনায়ক হিসেবে অভিহিত করে বলেন, 'ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, অহংকারের শীর্ষে পৌঁছনো স্বৈরশাসকদেরপতন অবশ্যই নির্ধারিত। ফেরাউন, নমরুদ, রেজা খান এবং মহম্মদ রেজার মতো শাসকদের অহংকারের জন্যই তন হয়েছিল। ট্রাম্পের ভাগ্যেও একই ঘটনা রয়েছে।' খামেনেই আরও বলেন, 'ইরানের জনগণ কখনওই বিদেশি শক্তির জন্য কাজ করে এমন ব্যক্তিদের গ্রহণ করে না এবং এই ধরনের ব্যক্তিদের জাতি প্রত্যাখ্যান করে।'

 

POST A COMMENT
Advertisement