Pakistan Donkey: চিনের ধনী ব্যক্তিদের টার্গেটে এখন পাকিস্তানি গাধা, কেসটা কী?

তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশের গদরে কসাইখানা শুরু হয়েছে। এটি পাকিস্তানের প্রথম বড় কসাইখানা যেখান থেকে গাধার মাংস, হাড় ও চামড়া বিদেশে রফতানি করা হবে।

Advertisement
চিনের ধনী ব্যক্তিদের টার্গেটে এখন পাকিস্তানি গাধা, কেসটা কী?চিনের ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে পাকিস্তানি গাধার এই পণ্যের ক্রেজ বেড়েছে, কী এই ই-জিয়াও?
হাইলাইটস
  • বালুচিস্তানের জনগণ বরাবরই চিনা প্রকল্পে অসন্তুষ্ট
  • গাধা জবাই নিয়ে প্রাদেশিক শহর গদরে প্রচুর বিক্ষোভও হয়েছে

তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশের গদরে কসাইখানা শুরু হয়েছে। এটি পাকিস্তানের প্রথম বড় কসাইখানা যেখান থেকে গাধার মাংস, হাড় ও চামড়া বিদেশে রফতানি করা হবে। পাকিস্তানের ন্যাশনাল ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড রিসার্চ মন্ত্রকের (এমএনএফএসআর) কর্তারা বৃহস্পতিবার বলেছেন যে গদরের কসাইখানায় উৎপাদনের কাজ শুরু হয়েছে। চিনের কাছে গাধার মাংস-সহ অন্য পণ্য বিক্রি করবে পাকিস্তান।

পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়ছেন যে চিন এর জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। গদর কসাইখানায় উৎপাদনের কাজও করছে একটি চিনা কোম্পানি। যদিও এনিয়ে নানা প্রশ্নও উঠছে। অনেকেই বলছেন, চিনা কোম্পানি গাধা মারছে, ওরা কেন জীবিত গাধা নিজেদের দেশ নিয়ে যাচ্ছে না। এ প্রশ্নে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলেছেন, জীবন্ত পশু রফতানি করা কঠিন কাজ। এমএনএফএসআর কর্তারা বলেছেন যে পাকিস্তানের অন্যান্য অংশেও গাধার জন্য কসাইখানা নির্মাণের অনুরোধ আসছে। পাকিস্তান এই খাতে বিনিয়োগের জন্য অন্যান্য চিনা কোম্পানির সঙ্গেও আলোচনা করছে।

বালুচিস্তানের জনগণ বরাবরই চিনা প্রকল্পে অসন্তুষ্ট। এখানকার মানুষরা বলছেন যে পাকিস্তান সরকার চিনের সহযোগিতা নিয়ে তাদের সম্পদ ব্যবহার করছে। সরকার এখানকার উন্নয়নে মনোযোগ দেয় না এবং তারা তাদের নিজস্ব প্রদেশের সম্পদ থেকে লাভের অংশ পায় না। গাধা জবাই নিয়ে প্রাদেশিক শহর গদরে প্রচুর বিক্ষোভও হয়েছে।

পাকিস্তানে প্রতি বছর লক্ষাধিক গাধাকে জবাই করা হয়। এছাড়াও গাধা মালামাল বহনের জন্যও ব্যবহার করা হয়। পাকিস্তানে গাধার সংখ্যা প্রায় ৫৯ লাখ এবং চিন এই গাধার প্রধান বাজার। চিনে গাধার মাংস খুব জনপ্রিয়। পাকিস্তান আগেও চিনে গাধা রফতানি করত। কিন্তু সেটা কম ছিল। তবে, গত বছর থেকে চিনে ই-জিয়াও-এর চাহিদার কারণে প্রতি বছর পাকিস্তানে লাখ লাখ গাধা জবাই করা হচ্ছে। ই-জিয়াও হল প্রথাগত ওষুধে ব্যবহৃত জেলটিন, যা গাধার চামড়া থেকে তৈরি করা হয়। পাকিস্তানও চিনের চাহিদা মেটাতে আফ্রিকা থেকে গাধা রফতানি করে এবং তারপর চিনে পাঠায়।

Advertisement

ই-জিয়াও কী এবং কেন চিনের ধনী ব্যক্তিরা এটি পছন্দ করেন?

ই-জিয়াও গাধার চামড়া থেকে প্রাপ্ত কোলাজেন ব্যবহার করে তৈরি করা হয়, যা খাদ্য ও সৌন্দর্য পণ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। চিনের অনেক লোক বিশ্বাস করেন যে এটি রক্ত বাড়ায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে এবং রোগ প্রতিরোধ করে। কিং রাজবংশের সময় ই-জিয়াও চিনের ধনীদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এটি জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটি চিনে একটি বিলাসিতা হয়ে উঠেছে। লোকেরা এটিকে অ্যান্টি-এজিং হিসাবে ব্যবহার করে। এর চাহিদা বৃদ্ধির একটি কারণ হল চিনের ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত এবং বয়স্ক জনসংখ্যা। চিনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মতে, গত এক দশকে এর দাম ৩০ গুণ বেড়েছে। প্রতি ৫০০ গ্রামের দাম ১০০ ইউয়ান থেকে ২,৯৮৬ ইউয়ান (৩৬,৭৪১ টাকা)।

এক সময় চিনে কয়েক লক্ষ গাধা ছিল। ১৯৯২ সালে চিনে ১১ মিলিয়ন গাধা ছিল, যা এখন ৮০ শতাংশ কমে মাত্র ২০ লক্ষে দাঁড়িয়েছে। এই কারণে চিনকে বিদেশ থেকে গাধার চামড়া আমদানি করতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিন গাধার চামড়ার জন্য পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছে। পাকিস্তান থেকে চিনে পাঠানো বেশিরভাগ গাধার চামড়া গোপনে কেনাবেচা হয়।

TAGS:
POST A COMMENT
Advertisement