ডা. সানা রামচাঁদপাকিস্তানের প্রথম হিন্দু মহিলা হিসাবে সে দেশের সেন্ট্রাল সুপিরিয়র সার্ভিসেস (CSS) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন ডা. সানা রামাচাঁদ। তাঁকে পাকিস্তান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস Pakistan Administrative Services (PAS)-এর জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।
সানা রামাচাঁদ পেশায় একজন চিকিৎসক। সিন্ধ প্রদেশের শিকারপুরের বাসিন্দা সানা। এখানেই পাকিস্তানের বৃহত্তম হিন্দু জনবসতি রয়েছে। ১৮,৫৫৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২১ জন লিখিত পরীক্ষায় পাশ করেছেন। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন সানা। পরবর্তী ধাপে মেডিক্যাল, মাইকোলজিকাল এবং মৌখিত পরীক্ষার ভিত্তিতে সকলকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
ফল প্রকাশ হওয়ার পর সানা রামচাঁদ টুইট করেন, 'ওয়াহেগুরু জি কা খালসা ওয়াহেগুরু জী কি ফাতেহ... অত্যন্ত আন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আল্লাহ তায়ালার কৃপায় সিএসএস ২০২০ পরীক্ষা পাশ করেছি এবং পাকিস্তান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস-এর জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এর সমস্ত কৃতিত্ব আমার পিতামাতার।'
সর্বশেষ সিএসএসে পাসের হার শতকরা ২ ভাগেরও কম। কঠোর প্রতিযোগিতা পাশাপাশি ফেডারেল পাবলিক সার্ভিস কমিশন প্রয়োগ করা কঠোর মানদণ্ড যা এই নিয়োগের জন্য দায়ী।
ব্রিটিশ শাসনের সময় থেকে PAS পাকিস্তানের অত্যন্ত এলিট পরীক্ষা হিসাবে স্বীকৃত। এখানে পাশ করা পরীক্ষার্থীরা পুলিশের উচ্চপদে, জেলা শাসকের পদে বা পাকিস্তান বিদেশমন্ত্রকের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হন। বিবিসি উর্দু রিপোর্টে জানিয়েছে, প্রথম হিন্দু মহিলা হিসাবে পাকিস্তান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেসে নির্বাচিত হয়েছেন সানা। সব মিলিয়ে তালিকায় রয়েছেন ৭৯ জন মহিলা। পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন একজন মহিলা, মাহিন হাসান। তাঁকেও PAS-এ নির্বাচিত করা হয়েছে।
রামচাঁদ সিন্ধ প্রদেশের চাঁদকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেছেন। করাচির সিভিল হাসপাতাল থেকে হাউজ জব শেষ করেছএন। তার বাড়ির কাজ শেষ করেছেন। তিনি বর্তমানে সিন্ধ ইনস্টিটিউট অফ ইউরোলজি অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্ট থেকে এফসিপিএস করছেন এবং শিগগিরই একজন যোগ্য সার্জেন হয়ে উঠবেন।