Global Warming Crisis : কোথাও শুধু বন্যা, কোথাও খরা; কয়েক বছরের ভয়াবহ রূপ দেখাবে প্রকৃতি

উষ্ণায়নের অন্যতম বড় প্রভাব পড়তে পারে কৃষিতে। অতিরিক্ত গরম, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘ খরা কিংবা হঠাৎ অতিবৃষ্টির কারণে ফসলের উৎপাদন কমে যেতে পারে। কোথাও বৃষ্টির অভাবে জমি শুকিয়ে যেতে পারে, আবার কোথাও অতিরিক্ত বৃষ্টিতে নষ্ট হতে পারে ফসল।

Advertisement
কোথাও শুধু বন্যা, কোথাও খরা; কয়েক বছরের ভয়াবহ রূপ দেখাবে প্রকৃতি      প্রতীকী ছবি
হাইলাইটস
  • জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু পরিবেশে সীমাবদ্ধ থাকবে না
  • এর বড় প্রভাব পড়তে পারে দেশের অর্থনীতিতেও

ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব। কারণ, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়ে যেতে পারে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, এই হারে তাপমাত্রা বাড়লে উষ্ণায়নের ভয়াবহ চেহারা দেখতে হবে। ঝুঁকির মুখে পড়বে মানুষ, পরিবেশ, বাস্তুতন্ত্র এবং অর্থনীতি। 

UNEP-এর নতুন রিপোর্টে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত কৌশল হল ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা কিছুটা অতিক্রম করলেও যতটা সম্ভব কম মাত্রায় তাপমাত্রা বাড়তে দেওয়া। 

১.৫ ডিগ্রির বেশি উষ্ণায়নের ফলে কী হতে পারে? 

UNEP তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে, গড় তাপমাত্র এই পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে আবহাওয়ার বড়সড় পরিবর্তন হবে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের জয়বায়ু বদলাতে শুরু করবে। কোথাও বৃষ্টি বাড়বে, কোথাও তাপমাত্রা। আবহাওয়ার এমন তারতম্যের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাস্তুতন্ত্র। ফলে খাদ্যাভাব দেখা দিতে পারে। মানুষের স্বাস্থ্যের উপর ঝুঁকি বাড়বে। ধীরে ধীরে কমতে থাকবে জলের উৎস। পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অর্থনীতি সঙ্কটের মুখে পড়বে। 

সবথেকে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে ছোট দ্বীপরাষ্ট্র এবং সমুদ্র তীরবর্তী শহরগুলি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে সেই সব জায়গায়। 

বিপজ্জনক 'টিপিং পয়েন্ট'

তাপমাত্রা বৃদ্ধি হলে বিপজ্জনক টিপিং পয়েন্টে পৌঁছবে বিশ্ব। এটি আসলে জলবায়ুর গুরুত্বপূর্ণ সীমা। যা অতিক্রম করলে পরিবর্তন দ্রুত বা দীর্ঘমেয়াদি হয়ে যেতে পারে।

এর ফলে, বরফের বিশালস্তরের স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে। তার জেরে বড় বড় বরফস্তর গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি করবে। পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল অ্যামাজন ক্রমশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করবে। যার প্রভাব দেখা যাবে সর্বত্র। আটলান্টিক মহাসাগরের সমুদ্রস্রোত ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটতে থাকবে। বিজ্ঞানীরা এও জানাচ্ছেন, আবহাওয়ার রাতারাতি এমন পরিবর্তন হবে, তেমন নিশ্চয়তা নেই। কিছু পরিবর্তন হঠাৎ হতে পারে। আবার কিছু পরিবর্তন কয়েক দশক ধরে ধীরে ধীরে তৈরি হতে পারে। তবে অনেক কিছুই হতে পারে। আকস্মিক পরিবর্তনের সাক্ষীও থাকতে পারে বিশ্ব। 

Advertisement

জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াও কঠিন হবে

উষ্ণায়ন বাড়তে থাকলে গ্রিনহাউস গ্যাস বাড়তে থাকবে। আর তার জেরে বিভিন্ন দেশের মানুষকে তাপপ্রবাহ, বন্যা, খরার মুখোমুখি হতে হবে। এমন প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে তখন মানিয়ে নিতে হবে সাধারণ মানুষকে।  

তবে এখানেই শেষ নয়। উষ্ণায়ন যত বাড়বে, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার খরচও তত বাড়তে থাকবে। যে বন্যা বা তাপপ্রবাহ আগে কয়েক দশকে একবার দেখা যেত, তা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে। ফলে বাড়িঘর, রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎ পরিষেবা এবং কৃষি ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়বে।

উষ্ণায়নের সঙ্গে বাড়বে বিপদের মাত্রা

উষ্ণায়নের কারণে কিছু প্রাকৃতিক পরিবর্তন আবার গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। যেমন, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বরফ জমে থাকা মাটি বা পারমাফ্রস্ট গলতে শুরু করলে তার মধ্যে আটকে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং মিথেন বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আবার অতিরিক্ত গরমে জঙ্গল শুকিয়ে গেলে দাবানলের আশঙ্কা বাড়ে। বন পুড়ে গেলে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে মিশতে পারে।

ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি চক্র তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মানুষের কারণে গ্রিনহাউস গ্যাস বাড়ে, তার ফলে পৃথিবী গরম হয়। আবার সেই বাড়তি উষ্ণতা কিছু প্রাকৃতিক পরিবর্তন ঘটিয়ে আরও গ্রিনহাউস গ্যাস বায়ুমণ্ডলে ছাড়তে পারে। এতে উষ্ণায়ন আরও দ্রুত বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

কৃষির উপর বড় প্রভাব

উষ্ণায়নের অন্যতম বড় প্রভাব পড়তে পারে কৃষিতে। অতিরিক্ত গরম, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘ খরা কিংবা হঠাৎ অতিবৃষ্টির কারণে ফসলের উৎপাদন কমে যেতে পারে। কোথাও বৃষ্টির অভাবে জমি শুকিয়ে যেতে পারে, আবার কোথাও অতিরিক্ত বৃষ্টিতে নষ্ট হতে পারে ফসল।

এর সরাসরি প্রভাব পড়বে খাদ্যের দামে। উৎপাদন কমলে বাজারে খাদ্যের জোগান কমতে পারে এবং দাম বাড়তে পারে। ফলে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের উপর চাপ সবচেয়ে বেশি পড়বে।

স্বাস্থ্যেও পড়বে প্রভাব

অতিরিক্ত গরমের কারণে মানুষের শরীরে সরাসরি প্রভাব পড়বে। দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহে হিটস্ট্রোক এবং অন্যান্য গরমজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং শারীরিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিরা বেশি সমস্যায় পড়তে পারেন। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মশাবাহিত ও জলবাহিত কিছু রোগের বিস্তারের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অর্থনীতিতেও বড় ধাক্কা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু পরিবেশে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর বড় প্রভাব পড়তে পারে দেশের অর্থনীতিতেও। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা বা দাবানলে রাস্তা, বাড়ি, শিল্প প্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি এবং বিদ্যুৎ পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেগুলি পুনর্গঠনে বিপুল অর্থ খরচ হবে।

একই সঙ্গে চরম আবহাওয়ার কারণে কাজের সময় কমতে পারে। বিশেষ করে নির্মাণ, কৃষি এবং বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা কমার আশঙ্কা রয়েছে।

POST A COMMENT
Advertisement