জাপানে ভূমিকম্পভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.৯। এ দিন সকালে দেশটির উত্তর-পূর্ব উপকূলে এই তীব্র ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কোনও সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। এমনকী এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মৃত্যু বা ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি দেশের পারমাণু পরিকাঠামোতেও কোনও অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি।
জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা সাংবাদিকদের জানান, সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি জরুরি টিম গঠন করেছে। এছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা (JMA) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ইওয়াতে প্রিফেকচার উপকূলের কাছে। এই এলাকায় সমুদ্রের নীচে প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্প হয়। যদিও এই ভূমিকম্পের ফলে বড় ধরনের সুনামির আশঙ্কা নেই। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠে সামান্য ওঠানামা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাপানের ০ থেকে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আওমোরি প্রিফেকচার। সেখানে কম্পনের মাত্রা ছিল ‘৬-প্লাস’। এই মাত্রার কম্পনে সাধারণত দাঁড়িয়ে থাকা বা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে হামাগুড়ি দিয়ে চলতে হয়।
তোহুকু ইলেকট্রিক পাওয়ার জানিয়েছে, তাদের ওনাগাওয়া পারমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বন্ধ থাকা হিগাশিদোরি পারমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র-এ কোনও জটিলতা তৈর হয়নি। এমনকী দেখা যায়নি কোনও অস্বাভাবিকতা। একইভাবে জাপান পরমাণু নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আশপাশের অন্যান্য পারমাণু পরিকাঠামোতেও কোনও সমস্যা দেখা যায়নি। আর এটা অবশ্যই ভাল খবর।
ভূমিকম্পের পর ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ইস্ট জাপান রেলওয়ে কোম্পানি। নিরাপত্তার স্বার্থেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান হয়েছে। এর মধ্যে তোহোকু শিনকানসেন বুলেট ট্রেন পরিষেবাও কিছুটা বন্ধ রয়েছে। এছাড়া আওমোরি অঞ্চলের কয়েকটি এক্সপ্রেসওয়েও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
মাথায় রাখতে হবে, জাপান পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। বিশ্বের ৬ বা তার বেশি মাত্রার প্রায় ২০ শতাংশ ভূমিকম্প জাপান ও এর আশপাশের অঞ্চলে দেখা যায়।
২০১১ সালের মার্চ মাসে জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে ৯.০ মাত্রার এক ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামি আঘাত হেনেছিল। সেটিই ছিল জাপানের ইতিহাসে রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। ওই ভূমিকম্পের জেরে সৃষ্টি হয়েছিল ফুকুশিমা দাইইচি পরমাণু দুর্ঘটনা। এটা চার্নোবিল পারমাণু দুর্ঘটনা-এর পর বিশ্বের সবচেয়ে গুরুতর পরমাণু বিপর্যয়ের মধ্যে একটি বলে মনে করা হয়।