El Nino Effect in India 2026: এল নিনো আর বেশি দূরে নেই, উদ্বেগজনক পূর্বাভাস, ভারতের কী হাল হতে পারে বর্ষায়?

এল নিনো কোনও ঝড় বা মরশুম নয়। এটি ধীরে ধীরে তৈরি হওয়া একটি জলবায়ুগত পরিবর্তন, যার প্রভাব বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের উপর পড়ে। যখন প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাংশের উষ্ণমণ্ডলীয় সমুদ্রপৃষ্ঠের জল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি গরম হয়ে যায়, তখন বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ছন্দ বদলে যেতে শুরু করে।

Advertisement
এল নিনো আর বেশি দূরে নেই, উদ্বেগজনক পূর্বাভাস, ভারতের কী হাল হতে পারে বর্ষায়?এল নিনো-র প্রভাব
হাইলাইটস
  • এল নিনোর সতর্কবার্তা
  • এল নিনো পূর্বাভাস কি একদম সঠিক?
  • ভারতের জন্য কতটা চিন্তার?

খরার কবলে পড়তে পারে ভারতের একটি অংশ? ২০২৬ সালের বর্ষার আগে এই প্রশ্নটা ভাবাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার ব্যুরো অফ মেটিয়োরোলজি স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিল, এল নিনো  (El Nino) খুব বেশি দূরে নেই। খুব শীঘ্রই পৌঁছে যাবে ভূখণ্ডে। এই উদ্বেগপূর্ণ পূর্বাভাস যখন মিলল, ঠিক তার পরের দিনই ভারতের কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান কৃষিক্ষেত্রে এল নিনো-র প্রভাব নিয়ে জরুরি বৈঠক করতে চলেছেন। 

এল নিনো-র সম্ভাব্য আগমন ভারতের জন্য মোটেই সুখবর নয়। এমনিতেই দেরিতে বর্ষা ঢোকায় দেশের বহু মানুষ এখনও তীব্র গরমের মধ্যে রয়েছেন। অন্যদিকে, চাষিরাও বৃষ্টির অপেক্ষায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। কারণ বর্ষা দেরি হলে চাষাবাদ শুরু করতেও দেরি হয়, যা কৃষকদের উপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।

এল নিনোর সতর্কবার্তা

এল নিনো কোনও ঝড় বা মরশুম নয়। এটি ধীরে ধীরে তৈরি হওয়া একটি জলবায়ুগত পরিবর্তন, যার প্রভাব বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের উপর পড়ে। যখন প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাংশের উষ্ণমণ্ডলীয় সমুদ্রপৃষ্ঠের জল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি গরম হয়ে যায়, তখন বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ছন্দ বদলে যেতে শুরু করে। এর প্রভাব পড়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারত, এমনকী আমেরিকা মহাদেশ পর্যন্ত। ফলে কোথাও খরা, কোথাও অতিবৃষ্টি, আবার কোথাও অস্বাভাবিক গরমের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

প্রশান্ত মহাসাগরে এর আগে লা নিনা চলছিল। যার জেরে বেশি পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে ভারতে। লা নিনা শেষ হয়েছে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। মে মাসে এসে উষ্ণমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পরিস্থিতি নিরপেক্ষ অবস্থায় পৌঁছেছে। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের নীচে বিপুল পরিমাণ তাপশক্তি জমতে শুরু করেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক মাসে সেই অতিরিক্ত তাপ ধীরে ধীরে উপরের দিকে উঠে আসতে পারে। আর সেটাই ভবিষ্যতে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এল নিনো পূর্বাভাস কি একদম সঠিক?

Advertisement

দ্য ন্যাশনাল ওসিয়ানিক অ্যান্ড অ্যাটমস্ফিয়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে এল নিনো আসার সম্ভাবনা ৮২ শতাংশ। বছরের শেষ এই পূর্বাভাস রয়েছে ৯৬ শতাংশ। 

ভারতের জন্য কতটা চিন্তার?

সাধারণত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে জুন থেকে সেপ্টেম্বরে ভারতে প্রায় ৭০ শতাংশ বৃষ্টি হয়। ওই সময়সীমায় ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ খরিফ শস্য ফলন হয়। কিন্তু বেশির ভাগ এল নিনো বছরে দেখা গিয়েছে, বর্ষার দ্বিতীয় পর্যায়ে বৃষ্টি কম হয়। যার ফলে কৃষিতে বড়সড় প্রভাব পড়ে। ফসল ভাল হয় না।   

POST A COMMENT
Advertisement