Essar Group ও ট্রাম্পের বড় ডিল (ছবি: রয়টার্স)আমেরিকার বুকে সবথেকে বড় স্টিল কারখানা তৈরি করতে চলেছে এক ভারতীয় সংস্থা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার আমেরিকার আইওয়ায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় স্টিল কমপ্লেক্স তৈরির প্ল্যানিংয়ের কথা ঘোষণা করেছেন। আর সবথেকে বড় কথা, এই স্টিল কমপ্লেক্স তৈরি করবে ভারতের বহুজাতিক সংস্থা Essar Group-এর মালিকানাধীন Mesabi Metallics।
হোয়াইট হাউসে Mesabi Metallics-এর কর্তাদের পাশে নিয়ে প্রকল্পটির কথা ঘোষণা করা হয়। ট্রাম্পের দাবি, এই বিনিয়োগ আমেরিকার উৎপাদন শিল্পে বড়সড় গতি আনবে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এটি আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় স্টিল কারখানা হতে পারে।
ওদিকে Essar Group-এর চেয়ারম্যান রেওয়ান্ত রুইয়া ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, 'আমেরিকায় উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।' তাঁর মতে, আইওয়ার নতুন স্টিল কমপ্লেক্স তৈরি হলে আমেরিকায় লোহা উত্তোলন থেকে স্টিল উৎপাদন পর্যন্ত একটি সম্পূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি হবে।
ট্রাম্পও এই প্রকল্পকে ‘বিরাট বিনিয়োগ’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, 'আমেরিকার স্টিল শিল্প আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।'
মিনেসোটার লোহা যাবে আইওয়ার স্টিল কারখানায়
রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, পুরো প্রকল্পটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে মিনেসোটা থেকে লৌহ আকরিক তুলে আইওয়ায় নিয়ে গিয়ে সেখানেই স্টিল তৈরি করা যায়।
Mesabi Metallics-এর মিনেসোটার Nashwauk-এ একটি নতুন লৌহ আকরিক খনি রয়েছে। এই খনি তৈরিতে ইতিমধ্যেই সংস্থাটি ২.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে।
আইওয়া কারখানার প্রথম পর্যায়ে বছরে প্রায়৭.৫ মিলিয়ন টন স্টিল উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। পরে আরও উৎপাদন বাড়ান হবে। সেটা বছরে ১০ মিলিয়ন টন পর্যন্ত করা হতে পারে বলে খবর।
এই কারখানায় প্রথম স্টিল উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ২০৩০ সালে। ট্রাম্পের দাবি, মিনেসোটার এই খনিটি ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর আমেরিকায় তৈরি হওয়া প্রথম নতুন লৌহ আকরিক খনি।
খনিটি রয়েছে মিনেসোটার বিখ্যাত Mesabi Iron Range-এ। নতুন খনি থেকে বছরে প্রায় ৭.৫ মিলিয়ন টন লৌহ আকরিক উৎপাদন হতে পারে।
আমেরিকায় বড় বিনিয়োগ Essar-এর
আইওয়ার স্টিল প্রকল্পের মাধ্যমে আমেরিকায় নিজেদের উপস্থিতি আরও বাড়াচ্ছে Essar Group। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, সংস্থাটি আমেরিকায় মোট ১৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে।
এই কারখানাটি চালু হলে অন্তত ১,৭৫০টি স্থায়ী চাকরি তৈরি হতে পারে। কারখানা তৈরির সময় আরও ৫,০০০ থেকে ৬,০০০টি অস্থায়ী চাকরি হতে পারে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
হোয়াইট হাউসের হিসাব অনুযায়ী, নির্মাণকাজ এবং প্রথম ১০ বছরের উৎপাদন মিলিয়ে প্রকল্পটি আমেরিকায় প্রায় ৯৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্পের স্টিল নীতির সঙ্গে যোগ
আইওয়ার এই প্রকল্পের সঙ্গে ট্রাম্পের ‘আমেরিকায় উৎপাদন বাড়ানো’ নীতির সরাসরি যোগ রয়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আমেরিকার স্টিল শিল্পকে সুরক্ষা দিতে ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন বেশিরভাগ বিদেশি স্টিলের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছিলেন। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও এই শুল্ক বজায় রেখেছিলেন।
পরে ট্রাম্প বেশিরভাগ আমদানি করা স্টিলের উপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করেন। ট্রাম্পের যুক্তি, বিদেশি স্টিলের উপর বেশি শুল্ক থাকায় সংস্থাগুলি বাইরে থেকে স্টিল আমদানি করছে না। আমেরিকার মাটিতেই কারখানা তৈরি করছে।
সোমবার ট্রাম্প বলেন, 'সবাই আমেরিকাতেই কারখানা তৈরি করছে, কারণ তারা শুল্ক দিতে চায় না।'