France Iran Tussle: ’মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের আবহে নতুন সামরিক পদক্ষেপ নিল ফ্রান্স। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা করেছেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ফ্রান্স ও তার মিত্ররা একটি “শুদ্ধ প্রতিরক্ষামূলক” সামরিক মিশন শুরু করেছে। এই ঘোষণা করা হয় সাইপ্রাসে এক বৈঠকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধের তীব্রতা কমে এলে কন্টেনার জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে নিরাপত্তা দিয়ে ওই জলপথে চলাচল করানো হবে।
ফ্রান্স ইতিমধ্যেই তাদের অত্যাধুনিক বিমানবাহী রণতরী চার্লস ডি গালে এয়ারক্র্যাফট কেরিয়ারকে মেডিটেরিয়ান সি-তে মোতায়েন করেছে। এই রণতরীকে ঘিরে যুদ্ধজাহাজ ও বিমান সমর্থিত একটি প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত সামরিক সহায়তা দেওয়া যায়।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। এই সরু জলপথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে এবংসুয়েজ ক্যানাল ও রেড সি-এর ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জি-৭ দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের কথা বলেছেন ম্যাক্রোঁ। তাঁর মতে, বিশ্ব অর্থনীতি যাতে বড় ধাক্কা না খায়, সেজন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি।
তবে ফ্রান্সের এই পদক্ষেপের কড়া বিরোধিতা করেছে ইরান। ইরানের প্রাক্তন পার্লামেন্ট স্পিকার আলি লারিজানি সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ অঞ্চলে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ “সবার স্বার্থে নয়” এবং এতে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। ইরান ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রয়োজনে তারা সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই জলপথ নিয়ে সংঘাত বাড়লে তা বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় সংকট তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে মার্কিন নৌবাহিনী তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। ফলে হরমুজ প্রণালী ঘিরে আন্তর্জাতিক সামরিক উপস্থিতি দ্রুত বাড়ছে।
ফ্রান্স ইতিমধ্যেই রেড সি অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অপারেশন অ্যাসপাইডস মিশনের অংশ হিসেবে দুটি ফ্রিগেট মোতায়েন করেছে। এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডাইলিডস।
এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা ফরাসি সামরিক ঘাঁটিগুলিও এই উত্তেজনার প্রভাবের মধ্যে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না হয়, তবে হরমুজ প্রণালী ঘিরে সংঘাত আরও বড় আকার নিতে রে।


