পরমাণু শক্তি আরও বাড়াতে চায় ফ্রান্সদশকের বিরতির পর পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার বাড়ানোর ঘোষণা করল ফ্রান্স। দেশের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ (Emmanuel Macron) জানিয়েছেন, ফ্রান্স তার পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বাড়াবে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বর্তমানে ফ্রান্সের হাতে প্রায় ৩০০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। তবে এই সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে বলে স্পষ্ট করেছেন ম্যাক্রোঁ। ভবিষ্যতে মোট কতটি পরমাণু বোমা থাকবে, সেই সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
নীতিগত পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ফ্রান্সে কেবলমাত্র রাষ্ট্রপতির হাতেই থাকবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা। পাশাপাশি ‘ফরওয়ার্ড ডিটারেন্স’ নামে নতুন একটি ধারণা সামনে আনা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রয়োজনে মিত্র দেশগুলিতে অস্থায়ীভাবে পারমাণবিক সম্পদ মোতায়েন করা যেতে পারে। একাধিক ইউরোপীয় অংশীদার এ নিয়ে আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে শেষবার ১৯৯২ সালে ফ্রান্স তার পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বাড়িয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর ফের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। ফরাসি প্রশাসনের দাবি, দেশের প্রতিরোধক্ষমতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
২ মার্চ ২০২৬, পশ্চিম ফ্রান্সের নৌঘাঁটি থেকে ভাষণ দেন ম্যাক্রোঁ। এই ঘাঁটিই পারমাণবিক অস্ত্রবাহী ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিনের মূল কেন্দ্র। ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং Donald Trump-এর সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এই ভাষণ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেছেন, নিউক্লিয়ার ডিটারেন্স বা পারমাণবিক প্রতিরোধের মূল উদ্দেশ্য হল, ফ্রান্সের স্বার্থের বিরুদ্ধে যে কোনও হুমকিকে আগেভাগেই রুখে দেওয়া।