ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জিনপিং বেজিংয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের ঐতিহাসিক বৈঠক। এই বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতা কেবল তথাকথিত ভালো ভালো বিষয় নিয়েই আলোচনা করলেন না। বরং এমন অনেক বিষয়ে কথা হল যা নিয়ে দুই দেশের অবস্থান আগে থেকেই উত্তর-দক্ষিণ মেরুর। জিনপিং ট্রাম্পের সঙ্গে সহযোগিতার কথা বললেও যখনই তাইওয়ানের প্রসঙ্গ উঠে আসে তখন নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দেন চিনা প্রেসিডেন্ট। এই প্রসঙ্গে তিনি যে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের হ্যাঁ -তে হ্য়াঁ মেলাবেন না, তা জানিয়ে দেন।
চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম শিনহুয়ার দাবি, জিনপিং ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে জানান, তাইওয়ানের ইস্যুই হল আমেরিকা-চিন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর প্রশ্ন। তিনি সতর্ক করে বলেন, 'এই বিষয়টি সঠিকভাবে সামলানো গেলে দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকবে। কিন্তু ভুলভাবে পরিচালনা করা হলে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ বা টানাপোড়েনও তৈরি হতে পারে।'
জিনপিং আরও বলেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতা এবং তাইওয়ান প্রণালীতে শান্তি—এই দুই একসঙ্গে চলতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরেই চিন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে তাইওয়ান নিজেকে একটি পৃথক গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দেখে। আমেরিকা বহুদিন ধরে তাইওয়ানকে অস্ত্র ও রাজনৈতিক সমর্থন দিয়ে আসছে, যা নিয়ে বেজিংয়ের আপত্তি নতুন নয়।
তবে কড়া বার্তার আগেই দুই দেশের সম্পর্ক উন্নতির কথাও বলেন জিনপিং। তাঁর বক্তব্য, চিন ও আমেরিকার মধ্যে অংশীদারিত্ব বাড়া উচিত। এদিনের বৈঠকে বাণিজ্য ও শুল্ক ইস্যুও বিশেষ গুরুত্ব পায়। জিনপিং বলেন, চিন-আমেরিকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক উইন-উইন অর্থাৎ দু’দেশেরই লাভজনক। তিনি ফের দাবি করেন, ট্রেড ওয়ারে কখনও কারও জয় হয় না।
চিনা প্রেসিডেন্ট জানান, একদিন আগে দুই দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধিদের মধ্যে হওয়া আলোচনা ইতিবাচক ছিল এবং তা বিশ্বকে ভালো বার্তা দিয়েছে। তাঁর মতে, মতভেদ ও উত্তেজনা সমাধানের একমাত্র পথ হল সমতার ভিত্তিতে আলোচনা।
গত কয়েক বছরে আমেরিকা ও চিনের সম্পর্ক ক্রমশই উত্তপ্ত হয়েছে। ট্রেড ওয়ার, চিপ প্রযুক্তি, দক্ষিণ চিন সাগর এবং তাইওয়ান ইস্যু—বারবার দুই দেশকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। আপাতত শুল্ক নিয়ে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, তাইওয়ান এখনও দুই পরাশক্তির সম্পর্কের সবচেয়ে বড় ফ্ল্যাশপয়েন্ট হয়ে রয়েছে।