ত্রিশূল কাঁটায় শেষের শুরু পাকিস্তানের?মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের জেরে সারা বিশ্বে তেল সঙ্কট গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। পাকিস্তানেও মারাত্মক ভাবে এর প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে, ইসলামাবাদের মাথার উপর ক্রমেই ঋণের চাপ বাড়ছে। এরমধ্যে আবার আফগানিস্তানের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে নিজেদের বিপদ ডেকে আনছে পাকিস্তান। একযোগে এই তিন আক্রমণের জেরে কার্যত অশনি সঙ্কেত দেখা যাচ্ছে পাকিস্তানের মাথার উপর। কার্যত ত্রিশূল ফলায় এখন বিদ্ধ পাকিস্তান।
অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে ইতিমধ্যেই বিপুল ঋণের বোঝায় জর্জরিত পাকিস্তান। ইরান যুদ্ধের ফলে জ্বালানি হীনতার শঙ্কায় ভুগছে ইসলামাবাদ, অন্যদিকে আফগানিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ প্রতিবেশী দেশটির মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে তুলেছে।
পাকিস্তানের ঋণের পরিমাণ কত?
তবে পাকিস্তানের এই আর্থিক সঙ্কট কিন্তু নতুন কিছু নয়। বন্ধু দেশগুলি ছাড়াও IMF ও বিশ্বব্যাঙ্কের কাছে বারবার সাহায্য চেয়ে আসছে পাকিস্তান। তবে গত কয়েক বছরে বারবার দেশটিকে আর্থিক সাহায্য করা হলেও, নিজেদের ক্ষত সারিয়ে তুলতে পারেনি ইসলামাবাদ। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট মোতাবেক, ২০২৬ সালের জানুয়ারি নাগাদ পাকিস্তানের মোট ঋণের পরিমাণ ৭৯.৩২২ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি।
স্টেট ব্যাঙ্ক অফ পাকিস্তানের তরফে প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, পাকিস্তানে অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের (এসবিপি) তথ্য অনুসারে, ২০২৬ সালের জানুয়ারী নাগাদ দেশটির ফেডারেল সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ৫৫,৯৭৮ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপিতে পৌঁছেছে। এছাড়াও, বৈদেশিক ঋণ ২৩,৩৪৪ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপিতে দাঁড়িয়েছে। যা পাক জিডিপির প্রায় ৭০ শতাংশ এবং পাকিস্তানের অর্থনৈতিক দুর্দশার এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও পাকিস্তানে বিশৃঙ্খলা
পাকিস্তানের উপর দ্বিতীয় আঘাতটি এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে। আসলে আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের কারণে পাকিস্তানে তেল সংকট আরও গভীর হয়েছে। তেল আমদানির উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল পাকিস্তানে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি এমন যে, পাকিস্তানে তেলের ঘাটতির কারণে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, সরকারি যানবাহন ৬০% কমানো হয়েছে। এমনকি সাংসদ ও মন্ত্রীদের বেতনেও কাঁটছাঁট করা হয়েছে। সরকারি দফতরগুলোর অনাবশ্যক খরচ ২০% কমানো হয়েছে। পাশাপাশি স্কুলগুলোকেও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ডন পত্রিকায় প্রকাশিত একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, যদি অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের উপরে থাকে, তবে তা পাকিস্তানের জিডিপিতে ১-১.৫ শতাংশ নেগেটিভ প্রভাব ফেলতে পারে।
পাকিস্তানের উপর তৃতীয় ধাক্কা
পাকিস্তানের আগে থেকেই মারাত্মক সমস্যাগুলোয় ভুগছে। এরইমধ্যে ২০২৫ সালের শেষের দিকে আফগান-পাক সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে সংঘাত গুরুতর হয়েছে। যুদ্ধের জেরে পাকিস্তানের আমদানি ও রফতানি মন্থর হয়ে পড়েছে। সীমান্ত উত্তেজনার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগাড়ির চলাচল বন্ধের মুখে। ফলে দেশটির আমদানি ও রফতানি মন্থর হয়ে পড়েছে। ফলে পাকিস্তানে সমস্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ব্যাপক ভাবে বেড়ে গিয়েছে। ফলে দেশের জনগণ মারাত্মক মুদ্রাস্ফীতির সম্মুখীন হচ্ছে।
বিশেষ করে তোরখাম ও চামান সীমান্ত পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে আফগান কয়লার ঘাটতি পাকিস্তানে ব্যবসায়ীদের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় সিমেন্ট উৎপাদনকারীরাও তীব্র চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন।