চিনের বিরুদ্ধে একজোট G-7,'এক বিশ্ব, এক স্বাস্থ্য' বলে বিশ্বমঞ্চে হিট মোদী

বিশ্বের অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলিকে আর্থিক সাহায্যের নামে তাদের ওপর আধিপত্য স্থাপনের চেষ্টা করছে চিন। আধুনিক বিশ্বে নয়া সাম্রাজ্যবাদের সংজ্ঞা আঁকছে শি জিনপিং-এর প্রশাসন। চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) বিকল্প আরেকটি প্ল্যাটফর্ম তাই বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বিশ্বের ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭।

Advertisement
চিনের বিরুদ্ধে একজোট G-7,'এক বিশ্ব, এক স্বাস্থ্য' বলে  হিট মোদী আগামিদিনে যে কোনও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থার সংঘবদ্ধ লড়াইয়ের আহ্বান মোদীর
হাইলাইটস
  • দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের কর্নওয়ালে চলছে জি-৭ গোষ্ঠীভুক্ত রাষ্ট্রগুলির সামিট
  • তাতেই চিনকে সায়েস্তা করতে একজোট হল গোটা বিশ্ব
  • আগামিদিনে যে কোনও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থার সংঘবদ্ধ লড়াইয়ের আহ্বান মোদীর

বিশ্বের অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলিকে আর্থিক সাহায্যের নামে তাদের ওপর আধিপত্য স্থাপনের চেষ্টা করছে চিন। আধুনিক বিশ্বে  নয়া সাম্রাজ্যবাদের সংজ্ঞা আঁকছে শি জিনপিং-এর প্রশাসন। চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) বিকল্প আরেকটি প্ল্যাটফর্ম তাই বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বিশ্বের ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭। যার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য  উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে ধনী দেশগুলোর এই জোট। যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে জি ৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়া  দেশগুলোর নেতারা এমন একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।

 

 

করোনা আবহেই দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের কর্নওয়ালে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে জি-৭ গোষ্ঠীভুক্ত রাষ্ট্রগুলির তিন দিনের সামিট। ২০১৯ সালের পর এই প্রথমবার সামানসামনি সাক্ষাত করলেন বিশ্বের তাবড় রাষ্ট্রনায়করা। সেখানেই জি-৭ দেশগুলি সম্মিলিতভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এবং মধ্যম আয়ের  দেশগুলিতে বিনিয়োগ নজর দেবে। এই দেশগুলিতে তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে এবং প্রকল্পগুলিতে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে। চিনের সাম্রাজ্যবাদী নীতিকে আটকাতেই যে এই পদক্ষেপ তা স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে। হোয়াইট হাইসের শেয়ার করা  বিবৃতিতে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বেজিংয়ের সাথে কৌশলগত প্রতিযোগিতায় তাঁর মিত্রদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোও  তাঁদের মতামত জানিয়েছেন।

এদিকে জি ৭-এর সদস্য নয় ভারত। তবে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের আমন্ত্রণ পেয়েছে ভারত। সেই ডাকে সাড়া দিয়েই অতিথি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে জি-৭ সামিটে ভার্চুয়ালি যোগ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে তিনি 'One Earth, One Health' বিষয়টি তুলে ধরেন।  শুধু করোনাভাইরাস নয়, আগামিদিনে যে কোনও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থার সময় জি-৭ গোষ্ঠীকে সংঘবদ্ধভাবে লড়াইয়ের আহ্বান জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেইসঙ্গে করোনাভাইরাস টিকা এবং প্রযুক্তি থেকে পেটেন্ট প্রত্যাহারের আর্জিও জানান মোদী।

জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মের্কেল ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর “এক পৃথিবী, এক স্বাস্থ্য” বার্তাটিকে সমর্থন করেছেন। পেটেন্ট প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে ভারতকে সমর্থন জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনও। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়ের মাকরঁও  মন্তব্য করেন, টিকার উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে কাঁচামাল দিতে হবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন  ছাড়াও  কর্নওয়াবলে গিয়ে এই বৈঠকে অংশ নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। পাশাপাশি জাপান, ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা ও ইতালির প্রধানমন্ত্রীরাও উপস্থিত হয়েছেন সেখানে। ওই বৈঠকে ভারতের পাশাপাশি অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যোগদান করেন দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপ্রধানরা।

Advertisement

 

POST A COMMENT
Advertisement