
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এক বিতর্কিত ঘটনায়। যে সংস্থার মূল দায়িত্বই সরকারি নেটওয়ার্ককে সাইবার হুমকি থেকে রক্ষা করা, সেই সংস্থার শীর্ষ কর্তা নাকি জনপ্রিয় এআই প্ল্যাটফর্ম চ্যাটজিপিটি-তে সরকারি নথি আপলোড করেছিলেন। ঘটনাটি ঘিরে ওয়াশিংটনের প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সাইবারসিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সির (CISA) ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর মধু গোট্টুমুক্কালা গত বছরের শুরুতে কাজের প্রয়োজনে কিছু চুক্তি সংক্রান্ত ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক নথি চ্যাটজিপিটিতে শেয়ার করেন। নথিগুলি আপলোড হতেই স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা সতর্কতা সক্রিয় হয় এবং বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা শুরু হয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ওই নথিগুলি গোপন বা শ্রেণিবদ্ধ না হলেও তাতে ‘ফর অফিসিয়াল ইউজ অনলি’ (শুধু সরকারি ব্যবহারের জন্য) চিহ্ন ছিল। অর্থাৎ, সেগুলি প্রকাশ্যে ছড়িয়ে পড়ার অনুমতি নেই। মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতরের (DHS) একাধিক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই আপলোডের ফলে এমন সুরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়, যা সংবেদনশীল সরকারি তথ্য বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি ঠেকাতে তৈরি।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত মধু গোট্টুমুক্কালার দায়িত্বই হল রাশিয়া ও চিনের মতো রাষ্ট্রসমর্থিত সাইবার হামলা থেকে ফেডারেল নেটওয়ার্ককে সুরক্ষিত রাখা। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতাও চোখে পড়ার মতো, ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ইনফরমেশন সিস্টেমসে পিএইচডি, ইউনিভার্সিটি অফ ডালাস থেকে এমবিএ, ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস অ্যাট আরলিংটন থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতকোত্তর এবং অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রনিক্স ও কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি।
এই ঘটনার পর গত অগস্টে DHS-এর শীর্ষ কর্তারা একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেন, যাতে বোঝা যায় কোনও সরকারি সিস্টেম বা পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না। যদিও সেই পর্যালোচনার ফলাফল এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি।
সূত্রের খবর, গোট্টুমুক্কালার কাছে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের জন্য বিশেষ অনুমতি ছিল। সাধারণভাবে DHS-এর অধিকাংশ কর্মীকেই এই ধরনের এআই টুল ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, চ্যাটজিপিটির প্রকাশ্য সংস্করণে দেওয়া তথ্য সংরক্ষিত হতে পারে এবং ভবিষ্যতে সিস্টেম উন্নয়নের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে, যা তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি বাড়ায়।
তবে বিষয়টিকে তুলনামূলকভাবে হালকা করে দেখাতে চেয়েছে CISA। সংস্থার মুখপাত্র মার্সি ম্যাকার্থি ইমেলে জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মধ্যে অল্প সময়ের জন্য এই অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, গোট্টুমুক্কালা ২০২৫ সালের জুলাইয়ের মাঝামাঝি শেষবার চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেন এবং সেটিও ছিল অস্থায়ী ব্যতিক্রম হিসেবে অনুমোদিত।
উল্লেখ্য, এর আগেও গোট্টুমুক্কালাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পলিগ্রাফ পরীক্ষা সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে CISA-র কয়েকজন কর্মীকে ছুটিতে পাঠানো হয়। যদিও ওই পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন এবং কংগ্রেস সদস্যদের জানিয়েছেন, তিনি সেই ব্যাখ্যা মানেন না।