ইরান আক্রমণে আমেরিকার কী প্ল্যান?আমেরিকা এবং ইরানের দ্বন্দ্ব এখন যুদ্ধের দিকে মোড় নিয়েছে। ইতিমধ্যে চলতি সপ্তাহেই তেহরান আক্রমণের আভাস দিয়েছে হোয়াইট হাউজ। আর সেই হামলা কীভাবে হবে, তারও একটা রোডম্যাপ চলে এসেছে সামনে। যতদূর খবর, দুই দফায় ইরান আক্রমণের ছক কষেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এভাবেই তিনি তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করতে চাইছেন।
যদিও বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, শুধু পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করাই ট্রাম্পের লক্ষ্য নয়। তিনি চাইছেন যাতে তেহরানে আলি খামেনেই সরকার ফেলে দেওয়া যায়।
কী প্ল্যান ট্রাম্পের?
দুই দফায় ইরানে আক্রমণ হবে বলে প্রাথমিকভাবে ঠিক করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রথম দফায় এয়ার স্ট্রাইক বা আকাশ পথে আক্রমণ চালানো হবে। আর দ্বিতীয় দফায় পুরোদমে চলবে সেনা হামলা। আসুন পুরো প্ল্যানটা বুঝে নেওয়া যাক-
ফেজ ১, ওয়ার্নিং স্ট্রাইক
প্রথমেই অল আউট অ্যাটাকে ঝাঁপাবে না আমেরিকা। বরং সীমিত হামলা হবে। এই সময় ইরানের সেনা ছাউনি এবং সরকারি দফতরে হামলা করার ছক কষেছে হোয়াইট হাউজ। এর মাধ্যমে ইরানকে সতর্ক করে দিতে চাইছেন ট্রাম্প। আর এই আক্রমণ মাত্র ২ দিনের মধ্যে হতে পারে।
ট্রাম্প চান, ইরানে যত ইউরেনিয়াম রয়েছে, সেটা দেশ থেকে বের করে দিতে। অর্থাৎ বার্তা স্পষ্ট, এখনই বন্ধ করো পরমাণু কর্মসূচি। পাশাপাশি হিজবুল্লা এবং হুথির মতো সংগঠনকে সাহায্যও বন্ধ করো। নইলে বড় হামলা হবে।
ফেজ টু
এই পর্যায়ে বড় অ্যাটাক প্ল্যান করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের পক্ষ থেকে অল আউট অ্যাটাক করা হবে। এই সময় ট্রাম্প ইরানের পরমাণু কর্মসূচির স্থানে আক্রমণ চালাতে পারেন। পাশাপাশি ইরানের আলি খামেনেই শাসন ফেলে দেওয়ার কাজটিও শুরু করে দিতে পারেন। মাথায় রাখতে হবে ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ মজুত করেছে আমেরিকা। এমনকী যুদ্ধের অন্যান্য সরঞ্জামও মজুত রয়েছে।
পরবর্তী ৩ দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞরা বুঝতে পারছেন না যে আমেরিকার এই প্ল্যান আদৌ কার্যকর হবে নাকি, শুধুই হুমকির জন্য ব্যবহৃত হবে প্ল্যান! আসলে ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলাম শাসন শুরু হওয়ার পর থেকে এখনই সবথেকে দুর্বল সরকার রয়েছে। তাই ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলেই খুব সহজেই এই শাসন ফেলে দিতে পারেন। এমন দেখার তিনি সেই পথে হাঁটেন কি না!