৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়া হচ্ছে বাজারেমধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে সারা বিশ্বে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট। ভারতেও চলছে আশঙ্কার দড়ি টানাটানি। যুদ্ধ আরও লম্বা হলে, কী করে দেশ চলবে? তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। তবে এবার কিছুটা স্বস্তির বার্তা। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি-র তরফে জানানো হল, ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়তে চলেছে তারা। এরফলে বিশ্বজুড়ে তেলের ঘাটতি বেশ কিছুদিনের জন্য কম হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
IEA-র তরফে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই জরুরি তেলের মজুদ প্রতিটি সদস্য দেশের পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সময়সীমার মধ্যে বাজারে ছাড়া হবে। এর লক্ষ্য হল বিশ্ব বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ বৃদ্ধি করা এবং সম্ভাব্য সরবরাহ সঙ্কটের সময় দামের অস্থিরতা কম করা।
আইইএর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ফাতিহ বিরোল বিবিসিকে বলেছেন, "বর্তমানে তেলবাজার যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে তা আগে কখনো হয়নি। তাই সদস্য দেশগুলো জরুরিভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে আমি খুবই সন্তুষ্ট। জরুরি মজুদ থেকে এত বিপুল পরিমাণ তেল ছাড়ার সদস্য দেশগুলির সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।"
IEA কারা?
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি এমন একটি আন্তর্জাতিক আন্তঃসরকারি সংস্থা যাদের ঘোষিত লক্ষ্যই হল বিশ্ববাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখা। বর্তমানে ৩২টি দেশ এই সংস্থার মধ্যে রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বা কোনও কারণে তেলের বাজারে সঙ্কট দেখা এর লক্ষ্য হল বিশ্ব বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ বৃদ্ধি করা এবং সম্ভাব্য সরবরাহ সঙ্কটের সময় দামের অস্থিরতা কম করা।
বর্তমানে IEA-র সদস্য দেশগুলোর কাছে ১.২ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি জরুরি তেল মজুদ রয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারি বাধ্যবাধকতার অধীনে শিল্প খাতে আরও প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুদ আছে।
কেন বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সঙ্কট?
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের অপরিশোধিত তেল রফতানির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সরবরাহ করে। এই অঞ্চলে টানা উত্তেজনা বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এই প্রণালী দিয়েই বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ পেট্রোলিয়াম সরবরাহ হয়। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওযার পর থেকেই হরমুজ অবরোধ করেছে ইরান। ফলে বিশ্ব বাজারে জ্বালানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে।