ভোটদানে দূরত্ব বজায় ভারত। UNSC: রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেনের ৪টি এলাকাকে রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। রাশিয়ার এই পদক্ষেপ আমেরিকা, ব্রিটেনসহ অনেক পশ্চিম বিশ্বের দেশ ক্ষুব্ধ হয়েছে। পুতিনের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আলবেনিয়া রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তাব এনেছে। এই প্রস্তাবে ১০টি দেশের সমর্থন পাওয়া গেলেও ভারত, চিন, ব্রাজিল ও গ্যাবন ভোটদানে বিরত থেকেছে। তবে শেষ পর্যন্ত রাশিয়া ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
পশ্চিমা দেশগুলো কেন রাশিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ?
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। এই সময়ের মধ্যে রাশিয়া এমন একটি পদক্ষেপ নিয়েছে, যা আমেরিকাসহ অনেক পশ্চিম বিশ্বের দেশকে ক্ষুব্ধ করেছে। রাশিয়া ইউক্রেনের ৪টি এলাকা ডোনেটস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিজিয়া ও খেরসন দখল করে নিয়েছে। এর পরে, সম্প্রতি রাশিয়া এই অঞ্চলগুলিকে তাদের দেশে অন্তর্ভুক্ত করেছে। পাশাপাশি রাশিয়া পশ্চিমা দেশগুলোকেও হুমকি দিয়েছে যে তারা যদি এখন এসব এলাকায় হামলার চেষ্টা করে তাহলে রাশিয়া পূর্ণ শক্তি দিয়ে জবাব দেবে। ২৩ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার ডোনেস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিজিয়া এবং খেরসনে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর চারটি অঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষ রাশিয়ার সঙ্গে মিলে যাওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়। সংবাদ সংস্থার মতে, দাবি করা হয়েছে যে ডোনেস্কে ৯৯.২%, লুহানস্কে ৯৮.৪%, জাপোরিঝিয়াতে ৯৩.১% এবং খেরসনের ৮৭% মানুষ রাশিয়ার সঙ্গে যাওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
ক্রিমিয়াতেও একই পদ্ধতি নেওয়া হয়েছিল
২০১৪ সালে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে আগেও সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ফলে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। ইয়ানুকোভিচ ছিলেন একজন রুশ সমর্থিত নেতা। ২০১৪ সালে ইয়ানুকোভিচ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ান সেনাবাহিনী সেই সময়ে ইউক্রেনের অংশ ক্রিমিয়া দখল করে। ২০১৪ সালের মার্চ মাসে ক্রিমিয়াতে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। দাবি করা হয়েছিল যে ৯৭ শতাংশ মানুষ রাশিয়ায় যোগ দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ ক্রিমিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার অংশ হয়ে যায়।
রাশিয়াকে তোপ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের
ইউক্রেনের ভূখণ্ডে রাশিয়ার হামলার পর জাপোরিঝিয়ায় কমপক্ষে ২৫ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়েছে। এরপর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি শুক্রবার রাশিয়াকে ‘সন্ত্রাসী দেশ’ এবং ‘রক্ত পিপাসু’ উল্লেখ করে তোপ দাগেন। দক্ষিণ জাপোরিঝিয়ায় রাশিয়ার বোমাবর্ষণের পরে জেলেনস্কি বলেন, "শুধুমাত্র জঙ্গিরাই এটা করতে পারে। রক্ত পিপাসু। প্রতিটি ইউক্রেনীয় জীবনের জন্য ওরা অবশ্যই জবাব দেবেন।" এর মাধ্যমেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে ইউক্রেন ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর তালিকায় যোগদানের প্রচেষ্টা আরও জোরদার করেছে।